আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সম্প্রতি ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের একটি দল ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় দুইজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, গুলবদিন নাঈব এবং নাভীন‑উল‑হাক, আবার দেশের প্রতিনিধিত্বে ফিরে আসছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন দলকে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্য যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দল গঠন প্রক্রিয়ায় কোচিং স্টাফের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা হয়েছে। পূর্বে টিমের হেড কোচ হিসেবে কাজ করা ট্রটের নেতৃত্বে দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা হয়েছে। কোচের মতে, এই দুই খেলোয়াড়ের ফিরে আসা ব্যাটিং ও ফিল্ডিং উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
গুলবদিন নাঈব, যিনি পূর্বে আফগানিস্তানের ক্যাপ্টেন হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ এবং তিনি টি২০ ফরম্যাটে দ্রুত গতি ও সঠিক বলের মাধ্যমে দলের আউটফিল্ডকে শক্তিশালী করেন। নাভীন‑উল‑হাকও তরুণ বয়সের সত্ত্বেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, যা তাকে দলের মূল শটম্যান হিসেবে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাকি ১৩ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় অভিজ্ঞ বোলার, অলরাউন্ডার এবং তরুণ ব্যাটসম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও তাদের নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচনের মূল মানদণ্ড ছিল সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং টুর্নামেন্টের চাহিদা অনুযায়ী ভূমিকা পালন করার সক্ষমতা।
আফগানিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। দলটি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রি-টুর্নামেন্ট ও ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশ নিতে পরিকল্পনা করছে, যাতে খেলোয়াড়দের ফর্ম ও কন্ডিশনিং নিশ্চিত করা যায়। এই প্রস্তুতি পর্যায়ে কোচিং স্টাফ বিশেষভাবে ফিল্ডিং ড্রিল এবং ব্যাটিং কৌশল উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে নির্ধারিত, এবং আফগানিস্তান দলটি গ্রুপ পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। দলটি গ্রুপে অগ্রগতি করে কোয়াটার ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখছে, যা পূর্বের টুর্নামেন্টে অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
নাঈবের ফিরে আসা বিশেষভাবে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তার নেতৃত্বের গুণ এবং দ্রুত গতি দিয়ে বলের গতি বাড়ানোর ক্ষমতা দলের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। নাভীন‑উল‑হাকের ক্ষেত্রে, তার আক্রমণাত্মক স্টাইল এবং মাঝারি গতি তার ব্যাটিংকে গতিশীল করে তুলবে।
দলটি এখন পর্যন্ত যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা মূলত শারীরিক ফিটনেস এবং মানসিক দৃঢ়তার উপর ভিত্তি করে। খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ডায়েট প্ল্যান এবং মানসিক প্রশিক্ষণ সেশন চালু করা হয়েছে, যাতে তারা উচ্চ চাপের পরিস্থিতিতে শীর্ষ পারফরম্যান্স দিতে পারে।
আফগানিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “নাঈব ও নাভীন‑উল‑হাকের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি আমাদের টিমের অভিজ্ঞতা ও আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বাড়াবে। আমরা পুরো দলকে একত্রে কাজ করতে এবং বিশ্বকাপে সেরা ফলাফল অর্জনে প্রস্তুত করছি।” এই বক্তব্য দলটির আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
টিমের প্রস্তুতি চলাকালীন, কোচিং স্টাফের সঙ্গে খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বিভিন্ন ট্যাকটিক্যাল সেশনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে পিচের ধরন অনুযায়ী ব্যাটিং অর্ডার এবং বোলিং পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া যায়।
আফগানিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের ইতিহাসে, তারা পূর্বে কিছু চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা নতুন দলে আত্মবিশ্বাস যোগাবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, আফগানিস্তান দলটি এখন একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপের পথে অগ্রসর হচ্ছে। নাঈব ও নাভীন‑উল‑হাকের ফিরে আসা দলের কৌশলগত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে দলটি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।



