শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি কলেজের বার্ষিক ছুটির সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট ৭২ দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে এবং পবিত্র রমজান মাসের পুরো সময় কলেজ বন্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্বাক্ষর রয়েছে এবং এতে ছুটির তালিকায় রমজান, দোলযাত্রা, শবে কদর, জুমাতুল বিদা, ঈদুল ফিতর এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য টানা ২৬ দিনের ছুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই গ্রীষ্মকালীন ছুটি ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
গ্রীষ্মের ছুটির পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দশ দিন এবং দুর্গাপূজা সহ কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য মোট দশ দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়াও শীতকালীন অবকাশের জন্য তালিকায় এগারো দিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম, ক্লাস শুরুর তারিখ, বার্ষিক পরীক্ষা এবং নির্বাচনী পরীক্ষার সময়সূচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ১৫ জুন থেকে একাদশ শ্রেণির ভর্তি শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ১ জুলাই ক্লাস শুরু হবে।
বর্তমান শিক্ষাবর্ষে (২০২৫-২৬) ভর্তি হওয়া একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ২৫ জুন থেকে শুরু হবে এবং পরীক্ষার ফলাফল ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে, সরকার আগের বছরের তুলনায় বার্ষিক ছুটি ১২ দিন কমিয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসের অধিকাংশ সময়ে বিদ্যালয় খোলা থাকবে, যা শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা উস্কে দিয়েছে।
মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায়ও পূর্ববছরের তুলনায় ১২ দিন কম ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। শবে মেরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরা সহ কয়েকটি ধর্মীয় ছুটি বাতিল করা হয়েছে, ফলে রমজান মাসের অর্ধেকের বেশি সময়ে স্কুল খোলা থাকবে।
এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং ছুটির সময়কে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে রমজান মাসে কলেজের সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা এবং স্কুলের অধিকাংশ দিন খোলা থাকা একটি নতুন সমন্বয়, যা শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত সৃষ্টি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময়সূচি অনুসারে, শিক্ষার্থীরা জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে এবং জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নতুন সেমেস্টার শুরু হবে। একই সঙ্গে বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পূর্ব পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নিতে পারে।
শীতকালীন ছুটির সময় ১১ দিন নির্ধারিত হয়েছে, যা শীতের মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিশ্রাম ও পুনরুজ্জীবনের সুযোগ দেবে। গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষে পুনরায় ক্লাসে ফিরে আসবে, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি কমে যাওয়া এবং রমজান মাসে অধিকাংশ দিন খোলা থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা সম্ভব করে তুলবে। একই সঙ্গে কলেজের রমজান বন্ধ থাকা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য যথেষ্ট সময় প্রদান করবে।
শিক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করার সময়, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উচিত নতুন ছুটির সূচি অনুযায়ী সময়সূচি সাজানো এবং গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যথাযথ সময় বরাদ্দ করা। আপনার সন্তান বা নিজে কীভাবে এই পরিবর্তনগুলোকে শিক্ষার সুবিধায় রূপান্তরিত করবেন, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা ভবিষ্যতের সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।



