নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি ২০২৬ সালের আগমনকে চিহ্নিত করতে শহরের ঐতিহাসিক, তবে বর্তমানে বন্ধ একটি ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে স্টেশনে শপথ গ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই অনুষ্ঠানটি নতুন বছরের মধ্যরাতে, সিটি হলের নিচে অবস্থিত, কিন্তু সিটি হলের মূল হলের বদলে ঐ স্টেশনে সীমিত সংখ্যক উপস্থিতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
মামদানি, ৩৪ বছর বয়সী, উল্লেখ করেছেন যে এই সাবওয়ে স্টেশনটি শহরের অতীতের নির্মাণ সাহসের একটি শারীরিক স্মারক, যা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল। তিনি এটিকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন এবং বিশ্বাস করেন যে শপথের স্থান হিসেবে এই স্টেশনটি ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতে নিয়ে যাওয়ার প্রতীক।
শপথের সময় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস শপথের শব্দ পাঠ করবেন। জেমসের মতে, শহরের সাবওয়ে ব্যবস্থা সকল নিউইয়র্কবাসীর জন্য সমতা ও সংহতির প্রতীক, যেখানে মানুষ তাদের শক্তি ও দুর্বলতা নির্বিশেষে একই ট্রেনে একসঙ্গে চলতে পারে।
মামদানি এই শপথের পর বুধবার সিটি হলের সিঁড়িতে আরেকটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান করবেন, যেখানে ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স শপথের শব্দ পাঠ করবেন। এই দুইটি অনুষ্ঠানকে একত্রে শহরের ঐতিহাসিক ও আধুনিক দিককে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শপথের পর ব্রডওয়েতে একটি ব্লক পার্টি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নিউইয়র্কের নাগরিকদের জন্য সঙ্গীত ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদযাপনকে মেয়র নতুন বছরের প্রথম দিনকে নাগরিকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার একটি উপায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই সাবওয়ে স্টেশনটি প্রথমবার ১৯০৪ সালে চালু হয় এবং তখন নিউইয়র্কের প্রাথমিক ২৮টি স্টেশনের একটি ছিল। ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এটি বন্ধ করা হয়। ১৯৭৯ সালে এটি নিউইয়র্ক সিটির ল্যান্ডমার্ক হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব হিস্টোরিক প্লেসেসে অন্তর্ভুক্ত হয়।
মামদানি শপথ গ্রহণের এই অনন্য পছন্দের পেছনে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা রয়েছে। তিনি শহরের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনসেবা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, সিটি হলের নিচের টানেল বা ঐতিহাসিক স্টেশনই হোক, শাসনকালে নাগরিকদের সেবা করার সুযোগই মূল লক্ষ্য।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক এই সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত প্রতীকবাদী বলে সমালোচনা করেছেন, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধী মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। শপথের স্থান নির্বাচনকে শহরের ইতিহাসের প্রতি সম্মান ও আধুনিক নগর পরিকল্পনার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বেশিরভাগেই স্বাগত জানানো হয়েছে।
মামদানি শপথের পর “গভীরভাবে সম্মানিত ও বিনীত” বোধ করছেন এবং নিউইয়র্কের বিশাল জনসংখ্যা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বলছেন যে তিনি ঐতিহ্যকে অগ্রসর করার জন্য কাজ করবেন।
এই শপথ অনুষ্ঠানটি নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে একটি নতুন রীতি হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে ঐতিহাসিক স্থানকে আধুনিক শাসনের সূচনা বিন্দু হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ভবিষ্যতে মেয়রের নীতি ও কর্মসূচি কীভাবে এই প্রতীকী সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



