বুধবার দুপুর ১:৫০ টার দিকে ঢাকা জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠে বিএনপি (বঙ্গবন্ধু জাতীয় পার্টি) এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোক প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের এই সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধি দলের ঢাকায় উপস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রার জন্য সমবেদনা জানানো।
বিএনপির স্বীকৃত ফেসবুক পেজে বিকেল ১:৫০ টার দিকে পোস্ট করা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় অংশ নিতে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে পৌঁছেছে এবং আজ জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে সরদার আয়াজ সাদিকের সাক্ষাৎ হয়েছে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে সাদিকের দল শোক ও সহমর্মিতা জানাতে উপস্থিত হয়েছে।
সরদার আয়াজ সাদিকের দল ঢাকায় পৌঁছানোর পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থা ও কনস্যুলার বিষয়ক) এম. ফরহাদ হোসেন। বিমানবন্দরে উপস্থিত কর্মকর্তারা সাদিককে স্বাগত জানিয়ে তার নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।
খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকাল ৬ টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ৭৯ বছর। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে, কারণ তিনি দুইটি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেবা করেছেন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের একজন হিসেবে স্বীকৃত।
সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এ ধরনের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির উপস্থিতি এবং শোক প্রকাশের মাধ্যমে দু’দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে পুনরায় জোরদার করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমন্বয়মূলক কার্যক্রম দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
বিএনপি নেতৃত্বের দিক থেকে, খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রা এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি পার্টির অভ্যন্তরে ঐক্যবদ্ধতার বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে, এই সমবেদনা প্রকাশের মাধ্যমে পার্টি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে পুনরায় দৃঢ় করতে চায়।
পাকিস্তানের স্পিকার সাদিকের এই সফর এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে একটি ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠায়, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।



