বিএনপির acting chairman তারেক রহমান ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুজন মন্ত্রী শোকবার্তা হাতে নিয়ে উপস্থিত হন, যা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অকাল মৃত্যুর প্রতি সমবেদনা প্রকাশের উদ্দেশ্যে।
সাক্ষাৎকারের সময় তারেক রহমান শোকবার্তা গ্রহণের পর ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশে এই ধরনের আন্তর্জাতিক সমবেদনা গুরুত্বপূর্ণ। নেপালের শর্মা এবং ভুটানের ধুংগেল দুজনেই বাংলাদেশের শোকের মুহূর্তে দেশের সঙ্গে সংহতি বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
খালেদা জিয়া, যিনি ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকালবেলায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে হৃদরোগজনিত জটিলতার কারণে মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে, বিশেষ করে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে গভীর শোকের অনুভূতি দেখা যায়।
বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, শোকবার্তা হস্তান্তরটি বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের একটি ছোট ঘরে অনুষ্ঠিত হয়। শর্মা ও ধুংগেল দুজনেই বাংলাদেশের শোকের মুহূর্তে উপস্থিত হয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমবেদনা ও সমর্থন প্রকাশের জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
নেপালের শর্মা বলেন, “বাংলাদেশের শোকের সময়ে আমরা আমাদের সমবেদনা জানাতে চাই এবং দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।” ভুটানের ধুংগেলও একই রকম মন্তব্য করেন, “শোকের সময়ে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব অপরিসীম, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করতে ইচ্ছুক।”
তারেক রহমান শোকবার্তা গ্রহণের পর উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তার ভূমিকা অমলিন। তিনি আরও বলেন, “এই কঠিন সময়ে আমরা দেশের সকল স্তরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব।”
বিএনপি বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর পার্টির নেতৃত্বের কাঠামো পুনর্গঠন এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক মিত্রদের সমবেদনা এবং সমর্থন পার্টির জন্য নৈতিক শক্তি যোগাতে পারে।
নেপাল ও ভুটানের মন্ত্রীরা বাংলাদেশের শোকের মুহূর্তে উপস্থিত হয়ে, দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সূচনা করতে পারে।
বিএনপির মিডিয়া সেল ভবিষ্যতে পার্টির অভ্যন্তরীণ সমাবেশ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। শোকবার্তা হস্তান্তরের মাধ্যমে পার্টি ও বিদেশি মন্ত্রীরা একে অপরের সঙ্গে সংলাপের পথ প্রশস্ত করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।



