বহু শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ২০২৫ সালে একের পর এক মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রথম অ-ইউরোপীয় পোপ, অ্যানি হল ও দ্য গডফাদারের পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী, সোল সঙ্গীতের কিংবদন্তি এবং বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনারসহ বহু নামের মৃত্যু সংবাদ আজকের সংস্করণে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম অ-ইউরোপীয় পোপ, যিনি এক হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পর এই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার নেতৃত্বে ক্যাথলিক চার্চের বহু সংস্কার ও সামাজিক নীতি পরিবর্তন ঘটেছিল, যা বিশ্বব্যাপী বিশাল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অ্যানি হল এবং দ্য গডফাদারের জন্য অস্কার জয়ী অভিনেত্রী ডায়ান কীটনও একই বছর মৃত্যুবরণ করেন। লস এঞ্জেলেসে জন্ম নেওয়া কীটন তার ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৭০-এর দশকে, এবং ওডি অ্যালেনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সৃজনশীল অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। অ্যানি হলে তিনি সর্বোত্তম অভিনেত্রী পুরস্কার অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে তিনটি অস্কার নোমিনেশন পান, যার মধ্যে রয়েছে ‘সামথিংস গটা গিভ’, ‘মারভিন্স রুম’ এবং ‘রেডস’।
হলিউডের কিংবদন্তি রবার্ট রেডফোর্ডেরও ২০২৫ সালে মৃত্যু ঘটে। পঞ্চাশের বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং পরিচালক হিসেবে অস্কার জিতেছেন। ‘অল দ্য প্রেসিডেন্টস মেন’, ‘বাচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সানড্যান্স কিড’ ও ‘দ্য ওয়ে উই ওয়ার’ সহ বহু হিট চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এছাড়া তিনি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সমর্থনে সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও তরুণ চলচ্চিত্রশিল্পীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের মৃত্যুও একই বছরে জানানো হয়েছে। তিনি ‘দ্য ডিপার্টেড’, ‘নাইট অ্যান্ড ডে’ এবং ‘ইনসাইড ম্যানুয়েল’ সহ বহু চলচ্চিত্রে শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন। তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, যা তার শিল্পের অবদানের স্বীকৃতি দেয়।
মঞ্চের বিশিষ্টা জোয়ান প্লো রাইট এবং প্যাট্রিসিয়া রাউটলেজের নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। প্লো রাইট তার নাট্যজীবনে শেক্সপিয়ারীয় নাটক থেকে আধুনিক নাটকে বিস্তৃত ভূমিকা পালন করেছেন, আর রাউটলেজ তার তীক্ষ্ণ হাস্যরস ও দৃঢ় চরিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন, বিশেষ করে টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট’‑এ তার পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য।
ব্রিটিশ টেলিভিশন সিরিজ ‘ফল্টি টাওয়ারস’‑এর স্মরণীয় চরিত্র প্রুনেলা স্কেলসের “বেসিল!” কথাটি এখনো দর্শকদের মুখে মুখে চলে। তিনি শুধুমাত্র এই সিরিজে নয়, মঞ্চে রাণী এলিজাবেথ দ্বিতীয় চরিত্রে অভিনয় করে আলান বেনেটের ‘এ কোয়েশন অব অ্যাট্রিবিউশন’‑এ প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি চ্যানেল ৪‑এর ‘গ্রেট কানাল জার্নিস’‑এ স্বামী টিমোথি ওয়েস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউকে ও বিদেশের নৌবাহিনীর পথে ভ্রমণ করে দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করেন।
সিনেমার জগতে সর্বদা অগ্রণী চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক ডেভিড লিঞ্চের মৃত্যুও ২০২৫ সালে ঘোষিত হয়। তিনি ‘মুলহল্যান্ড ড্রাইভ’, ‘ব্লু ভেলভেট’ এবং টেলিভিশন সিরিজ ‘টুইন পিকস’‑এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অতিবাস্তববাদী শৈলী নিয়ে আসেন, যা বহু তরুণ নির্মাতার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার কাজগুলো আজও বিশ্লেষণ ও প্রশংসার বিষয়।
সোল সঙ্গীতের কিংবদন্তি, যিনি দশকের পর দশক ধরে সুরের মাধ্যমে মানবিক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, তার মৃত্যুও এই বছর ঘটে। তিনি বহু হিট গানের স্রষ্টা ও গায়ক ছিলেন, এবং তার সুরগুলো বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছে।
ফ্যাশন জগতে সর্বাধিক পরিচিত ডিজাইনারদের একজন, যিনি তার অনন্য স্টাইল ও উদ্ভাবনী নকশার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ও পশ্চিমা ফ্যাশনের সেতু গড়ে তুলেছিলেন, তাও ২০২৫ সালে পরলোক গমন করেন। তার ব্র্যান্ড আজও বিশ্বব্যাপী উচ্চমানের পোশাকের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই বছর শেষের দিকে এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের বিদায়ের সংবাদ মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অবদান ও সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে রয়ে যাবে।



