ইয়াশের নতুন ছবি ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রাউন‑আপস’ ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে থিয়েটারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে, নির্মাতা দল নায়নথারাকে গঙ্গা চরিত্রে উপস্থাপন করে একটি নতুন পোস্টার প্রকাশ করেছে। এই পোস্টারটি গঙ্গার শক্তিশালী উপস্থিতি এবং ছবির অন্ধকারময় পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়।
‘টক্সিক’ হল ইয়াশের পরবর্তী বড় প্রকল্প, যা তার পূর্বের হিট ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’‑এর সাফল্যের পর আসে। ছবিটি একটি আধুনিক রূপকথা হিসেবে বর্ণিত, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত জটিল থিম ও ভিজ্যুয়াল শৈলী মিশ্রিত হয়েছে। নির্মাতা গীতা মোহনদাসের মতে, এই চলচ্চিত্রটি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কাজগুলোর একটি।
নায়নথারা, যাকে প্রায়শই দক্ষিণের মেরি গার্ল বলা হয়, তার বহুমুখী অভিনয় ক্ষমতা ও শক্তিশালী স্ক্রিন উপস্থিতির জন্য পরিচিত। দুই দশকের বেশি সময়ে তিনি বহু বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক সফলতা অর্জন করেছেন, এবং এখন তিনি ‘টক্সিক’‑এ গঙ্গা নামের চরিত্রে নতুন দিক অন্বেষণ করছেন। এই চরিত্রটি তার পূর্বের ভূমিকার তুলনায় আরও অন্ধকারময় এবং তীব্র, যা তার অভিনয় পরিসরকে আরও প্রসারিত করবে।
প্রকাশিত পোস্টারটি গঙ্গার প্রথম দৃশ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি, যেখানে তিনি একটি বিশাল ক্যাসিনোর প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে আছেন। পটভূমিতে ঝলমলে আলো, সোনার সজ্জা এবং উচ্চমানের গেম টেবিলের দৃশ্য দেখা যায়, যা ছবির উচ্চ বাজেটের ইঙ্গিত দেয়। নায়নথারার পোশাকটি গাঢ় রঙের, চামড়ার জ্যাকেট এবং স্লিক প্যান্ট দিয়ে গঠিত, যা তার শক্তি ও শৈলীর সমন্বয় প্রকাশ করে।
গঙ্গা চরিত্রের চিত্রায়নে নায়নথারা হাতে একটি আধুনিক বন্দুক ধরেছেন, যা তার আত্মবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণের প্রতীক। তার ভঙ্গি দৃঢ়, চোখে দৃঢ় সংকল্পের ঝলক, যা ছবির তীব্রতা ও নাটকীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। ক্যাসিনোর ভয়াবহ আলোর ছায়া ও গ্ল্যামার তার চারপাশে ছড়িয়ে আছে, যা গঙ্গাকে একটি শাসনকারী নারী হিসেবে উপস্থাপন করে।
গীতা মোহনদাস গঙ্গা চরিত্রে নায়নথারার নির্বাচনকে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নায়নথারার স্বাভাবিক স্ক্রিন উপস্থিতি এবং তার ব্যক্তিত্বের গভীরতা গঙ্গার আত্মার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিলে যায়। এই মিলকে তিনি ‘অনুকরণ নয়, সামঞ্জস্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা চরিত্রের স্বাভাবিকতা ও বাস্তবতা বাড়িয়ে তুলেছে।
নির্দেশকের মতে, নায়নথারা গঙ্গার চরিত্রে যে স্বচ্ছতা, সততা এবং আবেগের স্পষ্টতা নিয়ে আসছেন, তা কোনো অতিরিক্ত অভিনয় নয়, বরং তার নিজস্ব গুণের প্রতিফলন। তিনি গঙ্গার গভীরতা ও সংযমকে প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন যে এই গুণগুলো ছবির মূল থিমের সঙ্গে সুনিপুণভাবে যুক্ত। গীতা মোহনদাসের এই মন্তব্যগুলো নায়নথারার চরিত্রের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সূচকও বহন করে।
প্রশংসক ও ফ্যানদের মধ্যে পোস্টার প্রকাশের পর উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। সামাজিক মাধ্যমে গঙ্গার ভিজ্যুয়াল ও নায়নথারার নতুন রূপের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে, এবং অনেকেই ছবির টোন ও স্টাইল সম্পর্কে অনুমান করছেন। এই উত্তেজনা ছবির প্রি-রিলিজ মার্কেটিংকে আরও শক্তিশালী করেছে।
‘টক্সিক’ ছবির মুক্তি ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত, এবং এটি বহু ভাষায় একসাথে প্রদর্শিত হবে। ছবির প্রচার দল ইতিমধ্যে টিজার, ট্রেলার এবং বিভিন্ন মিডিয়া ইভেন্টের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা করেছে। ছবির বিতরণ বড় স্ক্রিনে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সমন্বিতভাবে হবে, যা বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে।
ইয়াশের ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’‑এর পর এই নতুন প্রকল্পটি বক্স অফিসে কীভাবে পারফর্ম করবে তা এখন পর্যন্ত অজানা, তবে নায়নথারার গঙ্গা চরিত্রের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং পোস্টারের ভিজ্যুয়াল আকর্ষণ ছবির সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। চলচ্চিত্রের থিম, ভিজ্যুয়াল এবং কাস্টের সমন্বয় দর্শকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



