ডিসেম্বর ২২ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মারা-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণসহ বিশ্বব্যাপী সংঘাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেন। সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির প্রতি বিশেষ প্রশংসা প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি আটটি যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন এবং নিজের নামে নতুন যুদ্ধজাহাজের শ্রেণি গঠন করার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণাটি তার নিজস্ব নেতৃত্বের চিত্রকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য বহন করে বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেন।
প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘর্ষ রোধ করা হয়েছে, এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাধানে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল দিতে পারতেন বলে এক সময় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। তবে বাস্তবে তিনি এখনও ইউক্রেনের সংঘাত সমাধানে সফল হননি।
ট্রাম্পের মতে, পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী উভয়ই তার নেতৃত্বে ১০ মিলিয়নের বেশি প্রাণ রক্ষা করেছেন। এই মন্তব্যটি পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি তার উচ্চ প্রশংসা নির্দেশ করে।
এই ধরনের প্রকাশনা জুন মাস থেকে কমপক্ষে দশবারের বেশি ঘটেছে, যা ট্রাম্পের পাকিস্তানের সামরিক শীর্ষের প্রতি ধারাবাহিক সমর্থনকে নির্দেশ করে। প্রতিটি প্রকাশনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অক্টোবর মাসে মিশরের শার্ম এল-শেখ শান্তি শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য মন্তব্যের একটি ঘটে। ইসরায়েল ও হামাসের গাজা সংঘর্ষের সাময়িক অবসান পরবর্তী এই শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বিশ্ব নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফকে উল্লেখ করেন, এরপর মুনির নাম তুলে ধরে তাকে “আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল” বলে বর্ণনা করেন।
বছরের প্রথমার্ধে ট্রাম্প মুনিরকে “একজন মহান যোদ্ধা”, “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি” এবং “অসাধারণ মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন” বলে প্রশংসা করেছেন। এই মন্তব্যগুলো পাকিস্তানের সামরিক শীর্ষের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
জুন মাসে দু’জনের প্রথম সাক্ষাতের পর ট্রাম্প মুনিরকে সাক্ষাৎ করার জন্য গর্বিত বোধের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুনিরের সঙ্গে দেখা করা তার জন্য সম্মানের বিষয়। এই প্রকাশনা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে আসিম মুনির পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে।
মুনিরের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে দেশের কূটনৈতিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং কৌশলগত গুরুত্ব পুনরুজ্জীবিত করার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নীতি ও কৌশলগুলো পাকিস্তানের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
ভবিষ্যতে ট্রাম্পের ধারাবাহিক প্রশংসা এবং মুনিরের কূটনৈতিক সক্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে গভীর সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো এবং শক্তি সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই সম্পর্কের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
অবশেষে, ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়িয়ে তুলেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কৌশল ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।



