রাশিয়া তার ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মোবাইল সিস্টেমকে বেলারুশে স্থাপন করেছে এবং এই মুহূর্তে প্রথমবারের মতো ভিডিও প্রকাশ করে। এই পদক্ষেপটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সীমানার কাছাকাছি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রসংবাদ সংস্থা ট্যাসের মতে, প্রকাশিত ফুটেজে বেলারুশের ক্রীচেভ-৬ বিমানবেসে মোবাইল ওরেশনিক সিস্টেমের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এটি সিস্টেমের প্রথম জনসাধারণে প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পূর্বে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘অবধারণযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর গতি শব্দের দশ গুণের বেশি বলে দাবি করেছেন। এই প্রযুক্তি রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিকাশ করা হয়েছে।
বেলারুশের রাশিয়ান দূত বোরিস গ্রিজলভ নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় এই স্থাপনাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “রাশিয়ার ওরেশনিক সিস্টেম বেলারুশে যুদ্ধকালীন দায়িত্বে প্রবেশ করেছে এবং এটি ইউনিয়ন স্টেটের নিরাপত্তা গ্যারান্টি চুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করে, যা মার্চে কার্যকর হয়েছে।” এই চুক্তি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভিত্তি।
বেলারুশের ভৌগোলিক অবস্থান ন্যাটো সদস্য দেশ এবং ইউক্রেনের সীমানার নিকটবর্তী, যা রাশিয়ার ইউরোপীয় লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়ায়। এই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পদক্ষেপের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে।
সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দাবি করেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে নোভগোরড অঞ্চলের ভ্যালদাই রেসিডেন্সে ড্রোন আক্রমণ হয়েছে। লাভরভের মতে, প্রায় ১০০টি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে চেষ্টা করেছে।
রাশিয়া এই আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুমকি জানায়, যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এই অভিযোগকে অস্বীকার করেন। উভয় পক্ষের বিবৃতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ওরেশনিক সিস্টেমের বেলারুশে অবস্থান রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের ইউরোপীয় লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। এই প্রযুক্তি উচ্চ গতিতে চলা এবং নিম্ন উচ্চতায় উড়ার ক্ষমতা রাখে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পার করা কঠিন করে তুলতে পারে।
পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার পারমাণবিক নির্ভরতা বাড়িয়ে ন্যাটোকে ইউক্রেনকে সমর্থন থেকে বিরত রাখার সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তারা দেখেন, রাশিয়া এই ধরনের উচ্চপ্রযুক্তি অস্ত্রের মাধ্যমে কূটনৈতিক চাপে অতিরিক্ত প্রভাব অর্জন করতে চায়।
দুটি আমেরিকান গবেষক রেইটার্সের সঙ্গে কথা বলে জানান, ভিডিওতে দেখা ভবনটি পূর্বে স্যাটেলাইট চিত্রে চিহ্নিত ক্রীচেভ-৬ বিমানবেসের সঙ্গে মিলে যায়। মিদলবেরি ইনস্টিটিউটের জেফ্রি লুইস এবং ভির্জিনিয়ার সিএনএ গবেষণা সংস্থার ডেকার ইভেলেথের মতে, প্ল্যানেট ল্যাবসের বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ছবি ও ভিডিওর তুলনা করে এই উপসংহার টানা হয়েছে।
ভবিষ্যতে রাশিয়া ও বেলারুশের নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় আরও সিস্টেমের সম্প্রসারণ হতে পারে, যা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই উন্নয়নকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা করবে। একই সঙ্গে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক আলোচনার নতুন দিকও উন্মোচিত হতে পারে।



