সালমান খান তার ৬০তম জন্মদিনে, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ ছবির টিজার প্রকাশ করে। এই টিজার গালওয়ান উপত্যকার জুন ২০২০-এ ভারত-চীন সীমান্তে সংঘটিত হাতে-হাতে যুদ্ধকে চিত্রায়িত করার লক্ষ্য রাখে। টিজার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে চীনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমস ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনা জানায়, যা দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনার আলোকে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করে।
ফিল্মটি অভিজ্ঞ পরিচালক আপূর্ব লাখিয়া পরিচালনা করছেন এবং সালমান খানকে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে। লাখিয়া ও তার দল গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে নাট্যরূপে উপস্থাপন করতে ব্যাপক গবেষণা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ছবির মূল লক্ষ্য হল ২০২০ সালের জুন মাসে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) বরাবর ঘটিত তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষের মানবিক দিক ও সৈন্যদের বীরত্বকে তুলে ধরা।
গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে ছবির টিজারকে ‘ইতিহাসের বিকৃতি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এতে একপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের অভিযোগ তোলা হয়েছে। চীনা প্রকাশনা ছবির টিজারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্যাগকে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে এবং বাস্তব ঘটনার সঙ্গে বৈপরীত্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া, গ্লোবাল টাইমস ছবির মাধ্যমে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি হ্রাস পাবে, এ ধরনের মন্তব্যও করা হয়েছে।
এই সমালোচনার ওপর চলচ্চিত্র শিল্পের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আশোক পন্ডিত স্পষ্টভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, চীনের এই রকমের মন্তব্য অপ্রত্যাশিত নয় এবং মূলত নিরাপত্তাহীনতার প্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, যখন কোনো ভারতীয় নির্মাতা চলচ্চিত্র তৈরি করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই শত্রু দেশের কর্মকাণ্ডকে উন্মোচিত করার চেষ্টা করা হয়। পন্ডিতের মতে, গ্লোবাল টাইমসের উদ্বেগ চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুর সত্যতা নয়, বরং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে।
প্রযোজক রাহুল মিত্রও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে গবেষণা ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং আপূর্ব লাখিয়া ও সালমান খান এমন কোনো প্রকল্পে যুক্ত হবেন না যেখানে তথ্য বিকৃত করা হয়। মিত্রের মতে, ছবির বিষয়বস্তু বাস্তব ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কেবলমাত্র শিল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপিত হয়েছে।
চীনের সমালোচনা সত্ত্বেও ছবির মুক্তি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গালওয়ান উপত্যকার ঐতিহাসিক ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত টিজার ও সংশ্লিষ্ট মন্তব্যগুলো দেখায় যে, বিষয়টি উভয় দেশের মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।
গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ, যা ২০২০ সালের জুনে LAC-এ ঘটেছিল, দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং বহু সৈন্যের প্রাণহানি ঘটিয়েছিল। ঐ সংঘর্ষের স্মৃতি এখনও উভয় দেশের জনমনে তীব্র, এবং তা নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করা স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীলতা জাগায়। এই প্রেক্ষাপটে ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ চলচ্চিত্রটি ঐ ঘটনার মানবিক দিক ও কূটনৈতিক প্রভাবকে একত্রে তুলে ধরতে চায়।
ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সাইন এমপ্লয়িজ (FWICE) এর চিফ অ্যাডভাইজার হিসেবে আশোক পন্ডিতের মন্তব্য শিল্প সংস্থার দৃষ্টিকোণকে প্রতিফলিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পের স্বায়ত্তশাসন ও সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আন্তর্জাতিক সমালোচনা আসতে পারে। পন্ডিতের মতে, চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু যদি যথাযথ গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি হয়, তবে তা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াই শিল্পের স্বাভাবিক প্রকাশ।
বিনোদন জগতের বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ছবির টিজার ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং দর্শকদের মধ্যে কৌতুহল বাড়িয়েছে। টিজারে দেখা দৃশ্য, সঙ্গীত ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের প্রশংসা করা হয়েছে, যদিও কিছু মন্তব্যে তথ্যগত সঠিকতা নিয়ে



