ওমানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। ১৫ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় পাঁচজন পরিবর্তন করা হয়েছে, যা পূর্বের এশিয়া কাপের স্কোয়াডের তুলনায় নতুন রঙ যোগ করেছে। দলটির অধিনায়ক হিসেবে ৩৬ বছর বয়সী জাতিন্দার সিংকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যিনি পূর্বের টুর্নামেন্টে স্থান পেতে পারেননি।
জাতিন্দার সিংকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে ভিনায়াক শুক্লা নিযুক্ত করা হয়েছে। দু’বছর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সিংয়ের নাম না থাকলেও, ফর্মের কারণে তিনি রিজার্ভে ছিলেন। এখন তিনি দলের শীর্ষ ব্যাটসম্যানের মর্যাদা অর্জন করেছেন, যেখানে তিনি ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১,৬০৫ রান করেছেন এবং নয়টি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তার পরিসংখ্যানের তুলনায় কেবল সাবেক অধিনায়ক আকিব ইলিয়াসেরই বেশি পঞ্চাশের ইনিংস রয়েছে, যার দশটি।
দলে নতুন মুখের উপস্থিতি স্পষ্ট। অলরাউন্ডার ওয়াসিম আলি, কারান সোনাভেল এবং যায় ওডেড্রা পাশাপাশি পেসার শাফিক জান এবং জিতেন রামানান্দি দলকে শক্তিশালী করেছে। রামানান্দি, যায় ও ওয়াসিম পূর্বের বিশ্বকাপের বাছাই পর্যায়ে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রাখেন, আর শাফিক জান এশিয়া কাপের রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টে ওমানের জার্সিতে প্রথমবারের মতো খেলেছিলেন, যেখানে সোনাভেলও অংশ নেয়।
গত এশিয়া কাপের সময় ৪৩ বছর ৩০৩ দিন বয়সে আমির কালিম ৫০ রান করে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে তোলেন, যা পূর্ণ সদস্য কোনো দেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের পঞ্চাশের রেকর্ড। বর্তমানে ৪৪ বছর বয়সী কালিম ৫৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৭১৮ রান এবং ৪৮টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, বামহাতি স্পিনার হিসেবে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
ওমানের দল বিশ্বকাপের বি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দল রয়েছে। গ্রুপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা এবং অস্ট্রেলিয়া দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। ওমানের প্রথম ম্যাচটি ৯ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে, যা তাদের টুর্নামেন্টের সূচনা চিহ্নিত করবে।
সম্পূর্ণ স্কোয়াডের তালিকায় রয়েছে: জাতিন্দার সিং (অধিনায়ক), ভিনায়াক শুক্লা (সহ-অধিনায়ক), মোহাম্মাদ নাদিম, শাকিল আহমাদ, হাম্মাদ মির্জা, ওয়াসিম আলি, কারান সোনাভেল, ফয়সাল শাহ, নাদিম খান, সুফিয়ান মেহমুদ, যায় ওডেড্রা, শাফিক জান, আশিস ওডেড্রা, জিতেন রামানান্দি এবং হাসনাইন আলি শাহ। এই সংমিশ্রণটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওমানের আক্রমণাত্মক ও রক্ষামূলক ক্ষমতা উভয়ই সমন্বিত করে, যা দলকে গ্রুপ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় প্রস্তুত করে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ওমানের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে। প্রতিটি প্রতিপক্ষের শক্তি ভিন্ন, তাই দলকে কৌশলগতভাবে খেলোয়াড়দের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে। অধিনায়ক জাতিন্দার সিংয়ের নেতৃত্বে, ওমানের লক্ষ্য হবে গ্রুপে অগ্রগতি করে কোয়াটার ফাইনালে পৌঁছানো, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাইলফলক হতে পারে।
ক্যাপিটেনের অভিজ্ঞতা এবং দলের সামগ্রিক ভারসাম্যকে কাজে লাগিয়ে, ওমানের কোচিং স্টাফ টিমের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিচ্ছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে, প্রতিটি রান ও উইকেটের গুরুত্ব অপরিসীম, এবং দলটি এই দায়িত্বকে পূরণ করার জন্য প্রস্তুত।



