অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন, ৫৪ বছর বয়সী, মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সীমানায় রয়েছে। ২০২৫ সালের বক্সিং ডে-তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রে নির্ভরশীল অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
হাসপাতালের সূত্র অনুযায়ী, মার্টিনের অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসা দল তাকে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে রাখছে। মেনিনজাইটিসের কারণে মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিয়েছে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের স্বাভাবিক কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। রোগের অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসকরা সতর্কতা বজায় রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তথ্য সংস্থা ক্রিকইনফো এই খবরটি প্রকাশের পর মার্টিনের শারীরিক অবস্থার নিশ্চিতকরণ করেছে। সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল নয় এবং চিকিৎসা চলমান। এই তথ্যের পর দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীরা শুভেচ্ছা ও প্রার্থনা জানাতে শুরু করেন।
প্রাক্তন সহকর্মী ও ক্রিকেট জগতের পরিচিত ব্যক্তিরা মার্টিনের দ্রুত সুস্থতার জন্য সমর্থন জানিয়ে পোস্ট শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে ড্যারেন লেহম্যান তার পরিবারসহ মার্টিনের জন্য ভালবাসা ও প্রার্থনা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি রোগীর প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। অন্যান্য সাবেক খেলোয়াড় ও ভক্তদের মন্তব্যে মার্টিনের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের কামনা স্পষ্ট দেখা যায়।
ড্যামিয়েন মার্টিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মোট ৬৭টি টেস্ট ম্যাচে অংশ নেন এবং ৪৪০৬ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ১৩টি সেঞ্চুরি রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের মূল শিলারূপে কাজ করেছেন এবং তার স্থিতিশীল ব্যাটিং স্টাইলের জন্য প্রশংসিত ছিলেন।
বিশেষ করে ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে মার্টিনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ফাইনাল ম্যাচে তিনি ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে ৮৮ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলেছিলেন, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই জয় অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।
ক্যাম্পেইন শেষ করার পর মার্টিন বেশ নিঃশব্দ জীবনযাপন করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে কমই উপস্থিত থাকতেন, তবে বক্সিং ডে-র আগের দিন একটি পোস্ট দিয়ে তার অনুসারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতেন। হঠাৎ এই রোগের খবর প্রকাশের পর ক্রিকেট সম্প্রদায়ে বিস্ময় ও উদ্বেগের স্রোত তৈরি হয়।
মার্টিনের অসুস্থতা কেবল তার পরিবারই নয়, পুরো ক্রিকেট জগতকে প্রভাবিত করেছে। তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার ও বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বর্তমান সময়ে তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই সকলের দৃষ্টিভঙ্গি তার দ্রুত আরোগ্যের দিকে কেন্দ্রীভূত।
মার্টিনের বর্তমান চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি নিয়মিত রক্তপরীক্ষা ও নিউরোলজিক্যাল মূল্যায়নের অধীনে আছেন। চিকিৎসা দল রোগীর শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে। রোগের অগ্রগতি অনুসারে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারিত হবে।
এই সময়ে মার্টিনের পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন তার মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানা যায়। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা শুভেচ্ছা ও প্রার্থনা তার আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করে তুলছে। পরিবারিক সমর্থন এবং ভক্তদের আন্তরিকতা রোগীর আরোগ্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মেনিনজাইটিসের ঝুঁকি ও তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। মার্টিনের মতো বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকাশ সমাজে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
ড্যামিয়েন মার্টিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপডেট পাওয়া গেলে তা দ্রুত প্রকাশ করা হবে। তার আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করে সকলের শুভেচ্ছা রইল।



