২০২৫ সালের শেষের দিকে ভারতের অনলাইন জগতে তিনটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রথমটি হল বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খানকে মেট গালায় প্রথমবারের মতো দেখা, দ্বিতীয়টি হল লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে কমনওয়েলথ ডে অনুষ্ঠানে একটি ভারতীয় পাইপ ব্যান্ডের পারফরম্যান্স, আর তৃতীয়টি হল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করা।
মে মাসে শাহরুখ খান নিউ ইয়র্কের মেট গালায় উপস্থিত হন, যা তার জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। গালার থিম ছিল “সুপারফাইন: টেইলরিং ব্ল্যাক স্টাইল”, যেখানে পুরুষদের ফ্যাশনকে কেন্দ্রীয় স্থান দেওয়া হয়েছিল। এই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি স্যাব্যসাচি মুখার্জীর নকশা করা একটি কালো স্যুট পরিধান করেন, যার সঙ্গে দ্যাণ্ডি ক্যান, ঝলমলে গয়না এবং সানগ্লাস যুক্ত ছিল।
শাহরুখের উপস্থিতি তৎক্ষণাৎ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তরা তার স্টাইল, পোশাকের বিশদ এবং রেড কার্পেটের মুহূর্তগুলোকে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে শেয়ার করে উল্লাস প্রকাশ করে। সামাজিক মিডিয়ায় তার নামের সঙ্গে “মেট গালা” শব্দটি ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগে পরিণত হয়, যা তার ফ্যানবেসের উচ্ছ্বাসকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বহু বছর ধরে শাহরুখ গালায় না যাওয়ার প্রশ্নই উঠছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তার উপস্থিতি ভক্তদের জন্য বড় আনন্দের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই উপস্থিতি তার আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আইকন হিসেবে অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে এবং ভারতীয় সেলিব্রিটিদের গ্লোবাল ইভেন্টে অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
মার্চ মাসে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ডে অনুষ্ঠানে একটি অনন্য সঙ্গীত পরিবেশনা ঘটেছিল। শ্রী মুক্তজীবন স্বামিবাপা পাইপ ব্যান্ড, যা নিজেকে “ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান পাইপ ব্যান্ড” বলে পরিচিত, ঐ অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্স দেয়। ব্যান্ডটি স্কটিশ রেজালিয়া পরিধান করে, তবে তাদের রেপার্টোয়ারে ভারতীয় এবং স্কটিশ উভয় ধাঁচের সুর মিশ্রিত থাকে।
এই ব্যান্ডটি ঐ অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে জনপ্রিয় ২০০৪ সালের হিট ফিল্ম “ধোঁম” থেকে গীত “ধোঁম মচলে” বাজায়। গানের সুরকার প্রীতম, এবং এই ট্র্যাকটি মূলত হিন্দি চলচ্চিত্রের একটি ড্যান্স নম্বর। রয়্যাল ফ্যামিলিকে স্বাগত জানাতে এই গানটি বাছাই করা অপ্রচলিত হলেও, দর্শকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ভিডিওটি দ্রুতই ভারতীয় সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে লক্ষ লক্ষ ভিউ অর্জন করে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ব্যান্ডের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে এবং ঐতিহ্যবাহী স্কটিশ ও ভারতীয় সঙ্গীতের মিশ্রণকে অনন্য বলে উল্লেখ করে।
কমনওয়েলথ ডে নিজেই ৫৬টি সদস্য দেশের বৈচিত্র্য, ঐক্য এবং ভাগ করা মূল্যবোধ উদযাপন করার একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান। এই বছরের অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে সঙ্গীতের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সংযোগের উদাহরণ প্রদান করেছে, যা ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে।
নভেম্বর মাসে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করে। এই জয় দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনাল ম্যাচে ভারতীয় ক্যাপ্টেন হারমানপ্রীত কৌর শেষ ক্যাচটি নেন, যখন দীপ্তি শর্মা নাদিনে ডি ক্লার্কের উইকেটটি নেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্টেডিয়ামের ভিড়ের উল্লাস শোনা যায়, যা দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের গর্বের প্রতিফলন।
এই জয় কেবল একটি টুর্নামেন্টের বিজয় নয়, বরং ভারতীয় নারী ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্ষমতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি। ম্যাচের পর সামাজিক মিডিয়ায় ভক্তরা দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ছবি, ভিডিও এবং শুভেচ্ছা পোস্ট করে, যা দেশের ক্রীড়া উত্সাহের নতুন দিককে উজ্জ্বল করে।
সামাজিক মিডিয়ার এই তিনটি ভাইরাল মুহূর্ত—শাহরুখের মেট গালা উপস্থিতি, ডহোম মাচলে সুরে স্কটিশ পাইপ ব্যান্ডের পারফরম্যান্স, এবং মহিলা ক্রিকেটের ঐতিহাসিক জয়—বছরের শেষের দিকে দেশের মনোযোগকে একত্রিত করেছে। প্রতিটি ঘটনা নিজস্ব ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং দেশের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া পরিচয়কে সমৃদ্ধ করেছে।



