সোনা ও রুপা ২০২৪ সালে বিশাল ওঠানামা দেখেছে; উভয় ধাতুর দাম ঐতিহাসিক শীর্ষে পৌঁছায় এবং বছরের শেষের দিকে সামান্য হ্রাস পায়। সোনার দাম এই বছর ৬০ শতাংশের বেশি বাড়ে, সর্বোচ্চ $৪,৫৪৯ (প্রায় ৩,৩৭৮ পাউন্ড) প্রতি আউন্সে পৌঁছায়, এরপর ক্রিসমাসের পর হ্রাস পেয়ে নতুন বছরের শেষের দিকে প্রায় $৪,৩৫০ স্তরে স্থিত হয়। রুপার দাম একই সময়ে $৮৩.৬২ প্রতি আউন্সের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, পরে $৭৪ স্তরে নেমে আসে।
এই উত্থানকে ব্যাখ্যা করা যায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার ক্রয় এবং সুদের হার হ্রাসের প্রত্যাশা দ্বারা। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে সোনা ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৬ সালে আবার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশ্বের প্রধান সোনার সংস্থা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের সোনার সংরক্ষণে শত শত টন বৃদ্ধি করেছে। এই ক্রয় সোনার চাহিদা বাড়িয়ে দেবে এবং দামকে সমর্থন করবে। রুপার ক্ষেত্রে, শিল্পখাতে চাহিদা এবং সরবরাহের ঘাটতি মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিমান্ডের পাশাপাশি, চীনের রুপা রপ্তানি সীমাবদ্ধতা বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। চীন, যা বিশ্বে রুপার দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক, অক্টোবর মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রুপা, টাংস্টেন এবং অ্যান্টিমনি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের নতুন নীতি ঘোষণা করে, যা সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ রুপার সরবরাহকে সংকুচিত করে, ফলে দাম বাড়ার প্রবণতা তীব্র হয়।
টেসলা সিইও ইলন মাস্ক সামাজিক মাধ্যমে চীনের রপ্তানি সীমাবদ্ধতা নিয়ে মন্তব্য করে, “এটি ভালো নয়। রুপা বহু শিল্প প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয়।” তার মন্তব্য বাজারে অতিরিক্ত উদ্বেগ যোগ করে, যদিও রুপার মূল্যের মূল চালিকাশক্তি সরবরাহের ঘাটতি ও শিল্প চাহিদা।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই বছর সোনা ও রুপা বাজারে বিনিয়োগের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF) এবং অন্যান্য আর্থিক পণ্যের মাধ্যমে। এই প্রবাহ দামকে আরও সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য উচ্চতর স্তরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করে।
সারসংক্ষেপে, সোনা ও রুপার দাম এই বছর ঐতিহাসিক উচ্চে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা ক্রয়, সুদের হার হ্রাসের প্রত্যাশা এবং রুপার সরবরাহ সীমাবদ্ধতার সমন্বয়ে ঘটেছে। তবে বছরের শেষের দিকে দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা বাজারের স্বাভাবিক সমন্বয় নির্দেশ করে। আগামী বছরেও সুদের হার নীতি, জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকি এবং শিল্প চাহিদা দামকে প্রভাবিত করবে, তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।



