চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ত্রুটির ফলে রাতারাতি সেবা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে হাজারো যাত্রী ও গাড়ি মালিকের ভ্রমণ পরিকল্পনা বিঘ্নিত হয়। গেটলিংক, যা টানেল পরিচালনা করে, রাতের কাজ চালিয়ে সমস্যার সমাধান ও সেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রাখে।
টানেলের ওভারহেড পাওয়ার সিস্টেমে ত্রুটি এবং লে-শাটল ট্রেনের যান্ত্রিক ব্যর্থতা একসাথে ঘটায় সম্পূর্ণ রুট বন্ধ, যা নতুন বছরের ছুটির সময়ে ইউরোস্টার ও লে-শাটল উভয়ের সেবা থামিয়ে দেয়। টানেলটি আংশিকভাবে পুনরায় খোলা হলেও সব গাড়ি ও যাত্রী পরিবহন সেবা এখনও দেরিতে চলছে।
গেটলিংক জানিয়েছে, রাতের কাজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার মূল কারণ সনাক্ত করে দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে এবং আগামী রাতের মধ্যে পুরো টানেল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইউরোস্টার সেবা পুরোপুরি বন্ধ রেখে অস্থায়ীভাবে পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে।
মঙ্গলবার মধ্যাহ্নে ইউরোস্টার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে চলা কমপক্ষে বারোটি ট্রেন রদ করা হয়। রেল অপারেটর যাত্রীদের বিনামূল্যে পুনঃবুকিং, টিকিট বাতিল করে ফেরত বা ই-ভাউচার প্রদান করার প্রতিশ্রুতি জানায়।
ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) তে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, অনেক যাত্রী টানেল বন্ধের পর বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য হয়। লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাসে ইউরোস্টার রদ হওয়ায় দুইজন আমেরিকান পর্যটককে পারিসে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। হ্যালি অ্যাডামস (৩৮) ও হ্যানা হ্যাগার (৩৫) প্রায় $৫৮০ (প্রায় £৪৩০) মূল্যের ফ্লাইটে চড়ে পারিসে গিয়ে হ্যানার ৩৬তম জন্মদিন উদযাপন করেন। যদিও তাদের ইউরোস্টার টিকিটের টাকা ফেরত পায়, লন্ডনে অতিরিক্ত এক রাতের হোটেল খরচ এবং পারিসে বুক করা হোটেল থেকে কোনো রিফান্ড না পায়। অ্যাডামস জানান, তারা পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরেও সেবা না পেয়ে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মেক্সিকোর একটি পরিবারও একই সমস্যার শিকার হয়। মনসেরাত হার্নান্দেস, তার ভাই জন পল এবং মা অলগা সকাল ০৮:০০ GMT-এ ইউরোস্টার ট্রেনে চড়ে গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেন, তবে ট্রেন রদ হওয়ায় তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি বহু যাত্রীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, টানেল বন্ধের ফলে গেটলিংক ও ইউরোস্টার উভয়েরই উল্লেখযোগ্য আয়হানি হতে পারে। টানেলটি দৈনিক লক্ষ লক্ষ যাত্রী ও গাড়ি পরিবহন করে, তাই সেবা বন্ধের সময় গড়ে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ইউরো আয় হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তদুপরি, জরুরি মেরামত ও অতিরিক্ত কর্মশক্তি ব্যবহারের ফলে অপারেশনাল খরচ বৃদ্ধি পাবে। ইউরোস্টার যাত্রীদের রিফান্ড ও ভাউচার প্রদান করে গ্রাহক সন্তুষ্টি বজায় রাখতে চায়, তবে বড় পরিমাণে রিফান্ডের ফলে নগদ প্রবাহে চাপ আসতে পারে।
শিল্প বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, টানেল বন্ধের ফলে ইউরোপীয় উচ্চ-গতির রেল নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা ব্যবসা ও পর্যটন সেক্টরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নতুন বছরের ছুটির সময়ে ভ্রমণ চাহিদা বাড়ে, ফলে রিজার্ভেশন বাতিল ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা খোঁজার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
গেটলিংক ও ইউরোস্টার উভয়ই ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি কমাতে বিদ্যুৎ সরবরাহের রিডান্ডেন্সি ও ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের মানোন্নয়ন পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা পুনরায় ঘটলে গ্রাহক আস্থা ক্ষয় এবং শেয়ারহোল্ডারদের আয় প্রত্যাশা পূরণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
সংক্ষেপে, চ্যানেল টানেলের বিদ্যুৎ সমস্যার ফলে ইউরোস্টার ও লে-শাটল সেবা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাত্রীদের বড় অসুবিধা হয়েছে। অপারেটররা দ্রুত মেরামত ও সেবা স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ব্যবসায়িক ক্ষতি, গ্রাহক রিফান্ড এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।



