আর্সেনাল ২০২৬ সালের প্রিমিয়ার লিগের শুরুর ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে দৃঢ় জয় অর্জন করে শীর্ষে পাঁচ পয়েন্টের সুবিধা পেয়েছে। প্রথমার্ধে উভয় দলে অস্থিরতা ও ত্রুটিপূর্ণ পারফরম্যান্সের পর, দ্বিতীয়ার্ধে দলটি সম্পূর্ণভাবে আধিপত্য বিস্তার করে।
প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত গেমটি সমানভাবে চললেও, আর্টেটা ও তার খেলোয়াড়রা চাপের মুখে সামান্য অস্থিরতা দেখায়। ভিলার ভিক্টর গ্যোকারেস আক্রমণে অপ্রতুলতা দেখিয়ে দু’টি হেডার মিস করে, আর আর্টেটা রেফারি ড্যারেন ইংল্যান্ডের সঙ্গে কিছু মুহূর্তে তর্ক করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের সূচনায় গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহেস ৪৫ মিনিটের পরের পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রথম গোল করেন, যা দলকে আত্মবিশ্বাসের ঢেউ এনে দেয়। তার পরপরই মার্টিন জুবিমেন্ডি স্কোরবোর্ডে নাম লেখায়, ফলে আর্মি দুই গোলের সুবিধা পায়।
মার্টিন ওডেগার্ডের মাঝখানে সৃষ্ট সুযোগগুলো গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহেস ও জুবিমেন্ডির গোলের ভিত্তি হয়ে ওঠে। ওডেগার্ডের সৃষ্টিশীলতা এবং শান্ত স্বভাব ভিলার আক্রমণকে বাধা দেয় এবং তার নিজস্ব পাসে দুইটি গোলের সুযোগ তৈরি করে।
গেমের ২০ মিনিট বাকি থাকাকালীন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড তৃতীয় গোলের মাধ্যমে স্কোরকে ৩-০ করে তোলেন। তার শুটিংয়ের সঠিকতা এবং পজিশনিং দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
গেমের শেষের দিকে গ্যাব্রিয়েল জিসাসের পরিবর্তনশীল উপস্থিতি ভিলার ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি একটি গোল করে স্কোরকে ৪-০ করে তোলেন, ফলে ভিলার ১২ ম্যাচের জয়শ্রেণী শেষ হয়।
এই জয়ের ফলে আর্মি শীর্ষে ছয় পয়েন্টের ব্যবধানে তৃতীয় স্থান থেকে আলাদা হয়ে দাঁড়ায়, আর ম্যানচেস্টার সিটি ছয় ধারাবাহিক জয় নিয়ে শীর্ষে অগ্রসর। আর্টেটা এই জয়কে দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
প্রথমার্ধে ডিক্লান রাইসের আঘাতের কারণে অনানা মাঝখানে শারীরিক উপস্থিতি হারায়, যা ভিলার মাঝখানে আধিপত্যের সুযোগ দেয়। তবে অর্ধেকের পর অনানা হ্যামস্ট্রিং আঘাতে মাঠ ছেড়ে যান, যা আর্মির গেমপ্লে পরিবর্তন করে।
অনানার অনুপস্থিতিতে ওডেগার্ডের সৃষ্টিশীলতা ফুটে ওঠে, তিনি দুইটি গোলের মূল সৃষ্টিকর্তা হয়ে ওঠেন এবং দলের আক্রমণকে সুশৃঙ্খল রাখেন। তার শান্ত স্বভাব এবং পাসের গুণমান ভিলার রক্ষাকে কঠিন করে তুলেছে।
অ্যাসটন ভিলার ভিক্টর গ্যোকারেসের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার নিচে রয়ে যায়; তিনি প্রথমার্ধে দু’টি হেডার মিস করেন এবং কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। তার পাঁচটি লিগ গোলের পরেও এই ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি।
আর্মি এই জয়ের মাধ্যমে নতুন বছরের প্রথম ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সানডারল্যান্ডে মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের বুস্ট পেয়েছে। আর্টেটা দলকে বলছেন, এখন থেকে শিরোপা জয়ের জন্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
ভিলার জন্য এই পরাজয় ১২ ম্যাচের জয়শ্রেণী শেষ করে এবং তারা এখন শীর্ষের ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে। দলটি পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে, তবে আর্মির বর্তমান ফর্ম তাদের শিরোপা চ্যালেঞ্জে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।



