27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগিনি সামরিক শাসক মামাদি ডুমবুয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী

গিনি সামরিক শাসক মামাদি ডুমবুয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী

গিনির সামরিক শাসক মামাদি ডুমবুয়া ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৮৬.৭২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী তিনি একাধিক ভোটে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন, ফলে রাউন্ড‑২ ভোটের প্রয়োজন নেই। ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ আট দিন সময় রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের, যাতে কোনো আপিল বা চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে তা পর্যালোচনা করা যায়।

ডুমবুয়া, ৪১ বছর বয়সী, পূর্বে বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ২০২১ সালে সামরিক কুপের মাধ্যমে তখনকার প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডে কে উৎখাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কন্ডের শাসনকালকে শেষ করে গিনিতে সামরিক শাসনের সূচনা করেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রায় পাঁচ বছর পর নাগরিক শাসনে ফিরে যাওয়ার পথ খুলে দিয়েছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সংখ্যা আটজন, তবে প্রধান বিরোধী দলগুলোর নেতারা নির্বাচন থেকে বাদ পড়ে এবং ভোটে অংশগ্রহণ না করার আহ্বান জানায়। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ন্যায্য প্রতিযোগিতা সম্ভব নয় এবং ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া যাবে না। এই অবস্থায় বিরোধীরা ভোটে অংশগ্রহণের পরিবর্তে বয়কটের মাধ্যমে তাদের বিরোধ প্রকাশ করেছে।

প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর গিনির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে ডুমবুয়ার ভোটের সংখ্যা মোট ভোটের ৮৬.৭২ শতাংশ, যা নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরম সংখ্যার চেয়ে বেশি। এই সংখ্যার ভিত্তিতে তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হবেন এবং রাউন্ড‑২ ভোটের দরকার হবে না।

গিনিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে; ২০২০ থেকে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় মোট নয়টি সামরিক কুপ ঘটেছে, যার মধ্যে গিনির কুপও অন্তর্ভুক্ত। এই প্রেক্ষাপটে ডুমবুয়ার নির্বাচনী জয় গিনির রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন প্রেসিডেন্টের শাসনামলে গিনির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে ইউরোপীয় ও আফ্রিকান পার্টনারশিপের পুনর্মূল্যায়ন প্রত্যাশিত। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ডুমবুয়া যদি নাগরিক শাসনের দিকে সুষ্ঠু রূপান্তর করতে পারেন, তবে গিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সুবিধা পেতে পারে। তবে বিরোধী দলগুলোর বয়কটের প্রভাব এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

গিনির সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চললেও, ডুমবুয়ার প্রেসিডেন্ট পদে স্বীকৃতি গৃহীত হলে তিনি গিনির সংবিধানিক কাঠামো পুনর্গঠন, মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে থাকবেন। তার শাসনামলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, দুর্নীতি মোকাবেলা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে কি না, তা সময়ের পরীক্ষায় নির্ধারিত হবে।

এই নির্বাচন গিনির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে সামরিক শাসন থেকে নাগরিক শাসনে রূপান্তরের সূচনা ঘটেছে। তবে নির্বাচনের ন্যায্যতা, বিরোধী দলের বয়কটের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ শাসনের স্বচ্ছতা গিনির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ধারণের মূল বিষয় হবে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments