ইভারটন এবং নটিংহাম ফরেস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ইভারটন ২-০ স্কোরে জয় পেয়েছে। গার্নার এবং থিয়ের্নো ব্যারির গোলের মাধ্যমে ইভারটন তার বাড়িতে বিজয় নিশ্চিত করেছে, আর ফরেস্টের ধারাবাহিক পরাজয় তৃতীয়বারে শেষ হয়েছে।
ফরেস্টের কোচ শিন ডাইচের অধীনে দলটি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অগ্রগতি দেখিয়েও, এই পরাজয়ের ফলে তিনটি ধারাবাহিক হারে আটকে আছে। পরবর্তী ছয়টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি দূরবর্তী মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, এবং এর মাঝখানে ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে ওয়েস্ট হ্যাম বর্তমানে টেবিলে ফরেস্টের ঠিক চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে।
ডেভিড ময়েসের নেতৃত্বে ইভারটন, যেটি পূর্বে গার্নারকে ধার করা ছিল, তার আক্রমণাত্মক শক্তি পুনরায় প্রদর্শন করেছে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ডুইট মেকনিল, যাকে ডাইচের পূর্বে দু’বার কাজের সময়ে জানতেন, গার্নারের জন্য একটি চমৎকার পাস দিল। গার্নার মর্গান গিবস-হোয়াইটের ডিফেন্স ভেদ করে শুট করে দূরের কোণে বলটি গেঁথে দিল, ফলে ইভারটন প্রথম গোল পেল। গার্নার এই মুহূর্তে কোনো উদযাপন না করেও গোলের গুরুত্ব স্বীকার করল।
দ্বিতীয় গোলটি থিয়ের্নো ব্যারির দায়িত্বে এল। গার্নারের গোলের পর ইভারটন দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে গিয়ে ব্যারিকে সুযোগ দিল, এবং তিনি শটটি জালে পাঠিয়ে স্কোর বাড়িয়ে দিল। এই দুই গোলই ইভারটনকে ২-০ সুবিধা এনে দিল এবং ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ফলাফল পরিবর্তন না হয়ে রইল।
ফরেস্টের আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা সীমিত রইল। জেক ও’ব্রায়েন এবং জেমস টারকোস্কি ইভারটনের ডিফেন্সকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করায় ফরেস্টের ইগোর জেসুসের ওপর চাপ কমে গেল। রুবেন দিয়া এবং জোসকো গভার্ডিয়লকে তুলনামূলকভাবে কম কঠোর প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা গেল। নেকো উইলিয়ামস, যিনি ডিফেন্সে বাম দিক থেকে ডান দিকে পরিবর্তন করে খেলেছিলেন, তবু ইভারটনের রক্ষণে বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ফরেস্টের পূর্বে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বাড়িতে খেলা ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পেশাদার গেম ম্যাচ অফিসিয়ালস (PGMO) এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। ক্লাবের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্তগুলো তাদের ক্ষতি করেছে এবং তারা সেই মুহূর্তের অডিও রেকর্ড চেয়েছে। তবে এই অভিযোগের পরেও, ফরেস্টের নিজস্ব ধীর শুরুই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ ইভারটন চার সপ্তাহ আগে হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে ৩-০ বড় জয় অর্জন করেছিল, যেখানে নিকোলা মিলেনকোভিচের নিজের গোলই ম্যাচের সূচনা নির্ধারণ করেছিল।
ইভারটনের এই জয় ডেভিড ময়েসের দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে তার দলটি দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো জয় বা গোল না পেয়ে আসছিল। গার্নারের গোলের পর তিনি কোনো উদযাপন না করলেও, তার পারফরম্যান্স ইভারটনের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ফরেস্টের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো কঠিন হবে। শিন ডাইচের দলকে শীঘ্রই কঠিন দূরবর্তী ম্যাচগুলো মোকাবেলা করতে হবে, যেখানে ভ্রমণ ও শারীরিক ক্লান্তি বড় বাধা হতে পারে। বিশেষ করে ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচে টেবিলে চার পয়েন্টের পার্থক্যকে কমিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইভারটনের জয় তাদের মৌসুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, আর ফরেস্টের জন্য এই পরাজয় পুনর্গঠন ও কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। উভয় দলই এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে, যেখানে ফলাফল তাদের মৌসুমের দিক নির্ধারণ করবে।



