সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলের লাতাকিয়া শহরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় সরকার রাতারাতি কারা-সীমা আরোপ করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গৃহস্থালির চলাচল সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আলাওয়াইত সংখ্যাগরিষ্ঠ পাড়া গুলিতে গতকাল ঘটে যাওয়া হামলার পর নেওয়া হয়েছে।
কারা-সীমা কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা দপ্তর ২১ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে তাদেরকে প্রাক্তন শাসক বাশার আল-আসাদের শাসনকালে যুক্ত থাকা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলা হয়েছে। দপ্তর জানিয়েছে, এই ব্যক্তিরা অপরাধমূলক কাজ, ধর্মীয় উস্কানিমূলক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণে জড়িত ছিলেন।
গত সোমবার লাতাকিয়ার আলাওয়াইত সংখ্যাগরিষ্ঠ পাড়া গুলিতে অজানা গোষ্ঠী গাড়ি ধ্বংস ও দোকান ভাঙচুরের কাজ করেছে। এই আক্রমণ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়ে দেয়।
এই হামলার পূর্বে একদিন আগে হোমস শহরে একটি বোমা হামলা ঘটায়, যার ফলে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে প্রতিবাদকারীদের ছড়িয়ে দেওয়ার সময় একজন নিরাপত্তা কর্মীও প্রাণ হারায়। হোমসের এই ঘটনার পর আলাওয়াইত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিবাদ শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত মারাত্মক রূপ নেয়।
এই ধারাবাহিক সহিংসতা সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। আল-শারা সরকার দেশকে স্থিতিশীল করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায়, তবে নিরাপত্তা সংকটের ধারাবাহিকতা তার পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলছে।
আহমেদ আল-শারার শাসনকালে, ডিসেম্বর ২০২৪-এ দীর্ঘকালীন আল-আসাদ পরিবারের শাসন শেষ হয়ে নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসা হয়। এই পরিবর্তনের পর দেশকে পুনর্গঠন, নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন এবং বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলিতে শাসন পুনরুদ্ধার করতে হয়।
নতুন সরকার নিরাপত্তা পুনর্স্থাপনের জন্য সামরিক ও পুলিশি পদক্ষেপ বাড়িয়ে চলেছে। নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লাতাকিয়া ও তার্তুস শহরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল উপকূলীয় অঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করা।
সেইসাথে, নিরাপত্তা বাহিনী লাতাকিয়ার বিভিন্ন পাড়া গুলিতে তাদের উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে। দপ্তর উল্লেখ করেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
অধিকতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কারা-সীমা প্রয়োগের ফলে লাতাকিয়ার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকার বলেছে, কারা-সীমা শেষ হওয়ার পরও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকবে, যাতে পুনরায় সহিংসতা রোধ করা যায়।
ভবিষ্যতে, লাতাকিয়া ও অন্যান্য উপকূলীয় শহরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেমন হবে তা নির্ভর করবে গোষ্ঠীগুলির কার্যক্রমের উপর এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার কার্যকারিতার উপর। বর্তমান পদক্ষেপগুলো যদি সফল হয়, তবে সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।



