ইউরোস্টার কোম্পানি জানিয়েছে যে লন্ডন‑প্যারিস, লন্ডন‑অ্যামস্টারডাম এবং লন্ডন‑ব্রাসেলস রুটের বেশিরভাগ ট্রেন পুনরায় চালু হয়েছে, তবে চ্যানেল টানেলের আংশিক পুনরায় খোলার পরেও গমনাগমনে বড় দেরি এবং শেষ মুহূর্তে বাতিলের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
টানেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার ফলে ওভারহেড কেবলে ত্রুটি এবং লেশাটল ট্রেনের একটিতে ত্রুটি দেখা দেয়, যা সব রুটে সম্পূর্ণ বন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ঘটনার ফলে হাজারো যাত্রী ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হয়।
ইউরোস্টার তৎক্ষণাৎ সেবাসমূহ স্থগিত করে এবং পরবর্তী সময়ে পুনরায় চালু হওয়া পর্যন্ত যাত্রীরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়। মঙ্গলবার মধ্যাহ্নে পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে কমপক্ষে বারোটি ট্রেন বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কোম্পানি যাত্রীদের বিনামূল্যে পুনঃবুকিং, সম্পূর্ণ রিফান্ড বা ই‑ভাউচার প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই নীতি অনুসরণে যাত্রীরা তাদের পরিকল্পনা পুনর্গঠন করতে পারে অথবা টিকিটের অর্থ ফেরত পেতে পারে।
লেশাটল সেবা, যা ফোকস্টোন ও ক্যালাইসের মধ্যে গাড়ি ও যাত্রী পরিবহন করে, একই সময়ে পুনরায় চালু হয়েছে। তবে টানেলের বিদ্যুৎ সমস্যার প্রভাব এখনও পুরোপুরি অদূর হয়নি, ফলে সেবার সময়সূচি ও গতি সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
বহু যাত্রী এই পরিস্থিতিতে বিকল্প রুট খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। কিছু যাত্রী বিমান, বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, যা অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের ক্ষতি ঘটিয়েছে।
দুইজন আমেরিকান পর্যটক, ৩৮ ও ৩৫ বছর বয়সী, লন্ডন স্ট প্যানক্রাস থেকে প্যারিসের দিকে যাত্রা করতে চেয়েছিলেন, তবে ট্রেন বাতিল হওয়ায় তারা বিকল্প হিসেবে বিমান টিকিট কিনতে বাধ্য হয়। তাদের মোট খরচ প্রায় ৫৮০ ডলার (প্রায় ৪৩০ পাউন্ড) হয়েছে, যদিও ইউরোস্টার টিকিটের রিফান্ড পেয়েছেন। অতিরিক্তভাবে, লন্ডনে এক রাতের হোটেল খরচ এবং প্যারিসের হোটেল রিজার্ভেশনের রিফান্ড না পাওয়ায় আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেক্সিকোর একটি পরিবারও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। পরিবারটির সদস্যরা টানেল রুটে ভ্রমণ পরিকল্পনা করছিলেন, তবে ট্রেনের বাতিলের ফলে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং তারা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।
এই ঘটনাটি ইউরোস্টারের ব্যবসায়িক দিকের উপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। ট্রেন বাতিল ও দেরি ফলে কোম্পানির দৈনিক আয় হ্রাস পেয়েছে, পাশাপাশি গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিফান্ড ও ভাউচার প্রদান অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের সেবা বিঘ্নের ফলে স্বল্পমেয়াদে ইউরোস্টারের শেয়ার মূল্যে চাপ আসতে পারে এবং ভ্রমণ শিল্পে বিকল্প পরিবহন মাধ্যমের চাহিদা বাড়তে পারে। এয়ারলাইন ও বাস সেবা সংস্থাগুলি স্বল্প সময়ের জন্য বুকিং বৃদ্ধি পেতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে, ইউরোস্টারকে টানেলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে, গ্রাহক সেবার মান উন্নত করে রিফান্ড প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং বিকল্প রুটের তথ্য প্রদান করা কোম্পানির পুনরুদ্ধার কৌশলের অংশ হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, চ্যানেল টানেলের বিদ্যুৎ সমস্যার ফলে ইউরোস্টার ও লেশাটল সেবায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে, তবে কিছু ট্রেন পুনরায় চালু হয়েছে। কোম্পানি যাত্রীদের রিফান্ড ও পুনঃবুকিং সুবিধা দিচ্ছে, তবে দেরি ও বাতিলের ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। এই পরিস্থিতি ভ্রমণ বাজারে স্বল্পমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করবে এবং ইউরোস্টারের আর্থিক ও সুনামগত প্রভাবকে প্রভাবিত করবে।



