ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে ইয়েভেট নিকোল ব্রাউন, যিনি কমেডি সিরিজ “কমিউনিটি”‑এ শিরলি বেনেট চরিত্রে পরিচিত, চেভি চেজের ওপর সিএনএনের নতুন ডকুমেন্টারির দিকে ইঙ্গিত করে তার অবস্থান প্রকাশ করেছেন। ডকুমেন্টারির শিরোনাম “I’m Chevy Chase and You’re Not” যদিও পোস্টে তা উল্লেখ করা হয়নি, তবু তার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না। তিনি লিখেছেন, “তারা আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো তথ্য জানে না এবং বর্তমান বা অতীতের কোনো বিষয়ের ওপর বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলতে পারে না।” এছাড়া তিনি প্রকাশ করেছেন, “এটা বলা দরকারি হয়ে যাওয়ায় আমি দুঃখিত।” শেষের দিকে তিনি ইস্ট ক্লিভল্যান্ডের কথ্য ভাষায় জোর দিয়ে বলেছেন, “আমার নাম তোমাদের মুখে না রাখো।”
ডকুমেন্টারিটি মারিয়া জেনোভিচ পরিচালিত, যিনি পূর্বে রোমান পোলানস্কি‑এর জীবনীমূলক চলচ্চিত্র এবং ল্যান্সের ওপর কাজ করেছেন। এই চলচ্চিত্রে “কমিউনিটি”‑এর চতুর্থ সিজনের মাঝামাঝি চেভি চেজের চাকরি থেকে বরখাস্তের পেছনের ঘটনাগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ডকুমেন্টারির তথ্য অনুযায়ী, চেজ শোয়ের ঘনিষ্ঠ কাস্টের থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করতেন এবং সিরিজের স্রষ্টা ড্যান হারমনের সঙ্গে তার সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ ছিল। একটি র্যাপ পার্টিতে চেজের পরিবার উপস্থিত থাকলেও, হারমন উপস্থিত সবাইকে “Fuck you, Chevy!” চিৎকারে উত্তেজিত করেন, যা চেজের জন্য বড় আঘাতের কারণ হয়।
চেজের বরখাস্তের মূল কারণ ছিল একটি দৃশ্য, যেখানে তার চরিত্র পিয়ার্স হথর্নে একটি পাপেট শো করে, যার পাপেট কালো রঙের মুখোশ পরিধান করে। এই দৃশ্যটি ড্যান হারমন লিখেছিলেন এবং চেজের সঙ্গে বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে। বিতর্কের সময় চেজের কাছ থেকে ন-শব্দের ব্যবহার ঘটেছে বলে দাবি করা হয়, যার ফলে ব্রাউন সেট থেকে বেরিয়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক জে চন্দ্রশেখর, যিনি ডকুমেন্টারিতে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “চেভি ও ইয়েভেটের মধ্যে বর্ণ সংক্রান্ত অতীতের কিছু সমস্যা ছিল, এবং সেই মুহূর্তে ইয়েভেট তীব্রভাবে রাগে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। চেভি নিজেও তৎক্ষণাৎ চলে যান, ফলে প্রোডিউসারকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘ইয়েভেটকে পরের দৃশ্যে রাখতে হবে কি না?'” চন্দ্রশেখর জানান, “হ্যাঁ, তাকে পরের দৃশ্যে রাখা হবে।”
ডকুমেন্টারিতে “কমিউনিটি” কাস্টের কোনো সদস্য অংশগ্রহণ করেননি, যা বিষয়ের ওপর একধরনের অনিচ্ছা বা বিরোধের ইঙ্গিত দেয়। তবে চেজের সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য কর্মী, যেমন পরিচালক জে চন্দ্রশেখর, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন। ডকুমেন্টারির মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলো চেভি চেজের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে উন্মোচিত করে, যেখানে বর্ণবাদী মন্তব্য, শোয়ের সৃজনশীল দিকের সংঘাত এবং কাস্টের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা স্পষ্ট হয়।
ইয়েভেট নিকোল ব্রাউন তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি ডকুমেন্টারির বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অক্ষম, কারণ তার সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্কের তথ্যের অভাব রয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, “আমার নাম আর কোনো আলোচনা থেকে দূরে রাখুন।” তার এই মন্তব্য ডকুমেন্টারির প্রকাশের আগে প্রকাশিত হওয়ায় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং শোয়ের অতীতের বিতর্কগুলোকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
ডকুমেন্টারির প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে চেভি চেজের ক্যারিয়ার ও “কমিউনিটি” শোয়ের অভ্যন্তরীণ গতি-প্রকৃতির ওপর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। যদিও শোয়ের বেশিরভাগ কাস্ট সদস্য ডকুমেন্টারিতে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে, তবু এই প্রকল্পটি শোয়ের ইতিহাসের অন্ধকার দিকগুলোকে উন্মোচন করার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ডকুমেন্টারির মাধ্যমে টেলিভিশন শিল্পের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে আরও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে কিনা, তা সময়ই বলবে।



