নেটফ্লিক্স নতুন বছরের সূচনায় হার্লান কোবেনের থ্রিলার উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘রান অ্যাওয়ে’ সিরিজটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে চালু করেছে। এই কাজটি বিখ্যাত লেখকের আরেকটি নাটকীয় রূপান্তর, যেখানে জেমস নেসবিট, রুথ জোন্স, মিনি ড্রাইভার এবং আলফ্রেড এনচের মতো আন্তর্জাতিক অভিনেতারা প্রধান ভূমিকায় উপস্থিত। সিরিজটি পরিবারিক সংঘাত এবং আসক্তি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা কোবেনের পূর্বের কাজের ধারাকে বজায় রাখে।
কাহিনীর মূল দিকটি হল বড় মেয়ে পেজের অপ্রত্যাশিত পালিয়ে যাওয়া, যার ফলে তার পিতা সাইমন গভীর উদ্বেগে পরিবারের পুনর্মিলনের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। এই প্রচেষ্টাকে সিরিজের ট্যাগলাইন “তাকে ফিরিয়ে আনতে আপনি কতদূর যাবেন?” দিয়ে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়েছে। গল্পের গতি দ্রুত, তবে আবেগের স্তর গভীর, যা দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।
প্রধান চরিত্রে জেমস নেসবিট সাইমনকে, রুথ জোন্স পেজের মা হিসেবে, মিনি ড্রাইভার পারিবারিক বন্ধু এবং আলফ্রেড এনচেরা পেজের ভাই হিসেবে অভিনয় করেছেন। প্রতিটি অভিনেতা তাদের চরিত্রের জটিলতা ও মানবিক দিককে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন, ফলে সিরিজের নাটকীয়তা বাড়ে। এছাড়া, সমর্থক অভিনেতা ও কর্মীরা পেছনের দৃশ্যপটকে সমৃদ্ধ করে তোলেন।
‘রান অ্যাওয়ে’ নেটফ্লিক্সের কোবেন সিরিজের ধারাবাহিকতা, যেখানে ২০২৪ সালে ‘ফুল মি ওন্স’ এবং ২০২৫ সালে ‘মিসিং ইউ’ সফলভাবে দর্শকের মন জয় করেছে। এই ধারাবাহিকতা কোবেনের গল্প বলার শৈলীকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয় এবং নেটফ্লিক্সের মূলধারার কন্টেন্ট লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করে।
কোবেন সম্প্রতি লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, তিনি এই উপন্যাসের ধারণা পেয়েছেন যখন তার মেয়ের ঘরে কিছু মাদক সংক্রান্ত সামগ্রী পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে পরিবারিক সমস্যার গভীরতা ও জটিলতা নিয়ে লেখার প্রেরণা জুগিয়েছে। এই ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ সিরিজের বাস্তবতা ও তীব্রতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।
লেখক জোর দিয়ে বলেছেন যে গম্ভীর নাটক ও হালকা হাস্যরসের সমন্বয়ই তার কাজের মূল বৈশিষ্ট্য। তিনি উল্লেখ করেন, “উচ্চতা ছাড়া নিম্নতা নেই, ডান দিক ছাড়া বাম দিক নেই, অন্ধকার ছাড়া আলোও নেই।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘রান অ্যাওয়ে’ তে হাস্যরসের ছোঁয়া দেখা যায়, যা গল্পকে অতিরিক্ত গম্ভীর না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে।
কোবেনের কাজগুলোতে অন্ধকারময় থিমের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি ব্যাখ্যা করেন, পরিবারিক সংগ্রাম এবং জীবনের কঠিনতা ছাড়া দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা কঠিন। তিনি বলেন, “যদি সবকিছু মসৃণভাবে চলে, তবে কে এই গল্প দেখতে চায়?” এই যুক্তি তার গল্পের গঠনকে প্রভাবিত করে, যেখানে সংঘাতই নাটকের চালিকা শক্তি।
অনেক ভক্ত তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি তার সন্তানদের নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন। কোবেনের উত্তর ছিল, “আমি রাতভর উদ্বিগ্ন হই না, তবে পরিবারিক সমস্যার বাস্তবতা নিয়ে কাজ করা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” এই কথাগুলো তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সমতা প্রকাশ করে।
নেটফ্লিক্সের এই নতুন সিরিজটি কোবেনের থ্রিলারকে ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় রূপান্তর করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে প্রতি বছর নতুন গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলা হয়। ‘রান অ্যাওয়ে’ তে পরিবার, আসক্তি এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের মিশ্রণ রয়েছে, যা সমসাময়িক সমাজের বাস্তব সমস্যাকে প্রতিফলিত করে।
সারসংক্ষেপে, ‘রান অ্যাওয়ে’ কেবল একটি রোমাঞ্চকর থ্রিলার নয়, বরং পরিবারিক বন্ধনের জটিলতা ও মানবিক দুর্বলতার উপর আলোকপাত করে। কোবেনের স্বকীয় শৈলী এবং নেটফ্লিক্সের উৎপাদন মানের সমন্বয়ে এই সিরিজটি দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



