27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিখালেদা জিয়ার শেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পাকিস্তানি স্পিকার আয়াজ সাদিকের ঢাকা সফর

খালেদা জিয়ার শেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও পাকিস্তানি স্পিকার আয়াজ সাদিকের ঢাকা সফর

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর – খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন, ২৯ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করার পর তার শেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বুধবার বিকাল দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার আয়াজ সাদিক উপস্থিত থাকবেন, যাকে পূর্বে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইশাক দার ঢাকায় আসার কথা ছিল।

ইশাক দার এক্সে ৩০ ডিসেম্বর একটি পোস্টে জানিয়েছেন যে, তিনি মূলত খালেদা জিয়ার শেষ সমাহার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে পরবর্তী পরিকল্পনা পরিবর্তন করে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার আয়াজ সাদিককে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইশাক দার একই পোস্টে জিয়ার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাতের প্রার্থনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, জিয়ার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সকলের সহায়তা ও সমর্থন প্রয়োজন।

খালেদা জিয়া ৬ টা ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল আশি বছর। হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ নিকট আত্মীয়দের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিকাল দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে খতিব জানাজার নামাজ আদায় করা হবে। এরপর শ্রীমতী জিয়ার দেহকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শাহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে জিয়ার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে, দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তার শেষ সমাহারকে সম্মানিত করা হবে।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার আয়াজ সাদিকের সফরকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাদিকের উপস্থিতি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সুযোগ বাড়াবে এবং জিয়ার শেষ সমাহারকে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানিত করার একটি প্রতীক হবে।

বিএনপি নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে, জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আনবে। তারেক রহমান ও অন্যান্য পার্টি নেতারা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বজায় রাখতে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে পারেন। তবে একই সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পুনর্গঠন ও নতুন মুখের উদয়ও প্রত্যাশিত।

পাকিস্তান থেকে আসা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে মজবুত করার সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও ধর্মীয় সংযোগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় হতে পারে।

অন্যদিকে, জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের প্রস্থান দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে পুনর্গঠন করতে পারে, যা নির্বাচন ও নীতি নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, খালেদা জিয়ার শেষ সমাহার এবং পাকিস্তানি স্পিকার আয়াজ সাদিকের উপস্থিতি দু’টি স্বতন্ত্র ঘটনা হলেও, উভয়ই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সংলাপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

এই অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের একটি সমাপ্তি চিহ্নিত করে, একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা ঘটাতে পারে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে, এই সমাহারকে শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনকভাবে সম্পন্ন করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments