28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকদশটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী গাজা মানবিক সংকটকে 'বিপর্যয়কর' বলে সতর্ক

দশটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী গাজা মানবিক সংকটকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে সতর্ক

মঙ্গলবার, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা গাজা অঞ্চলের মানবিক অবস্থার দ্রুত অবনতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রা কঠিনতর হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে গাজা অঞ্চলে শীতের কঠিন পরিস্থিতি, ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা এবং তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে বেসামরিকদের মুখোমুখি হওয়া বিপর্যয়কর অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই শর্তে ১.৩ মিলিয়ন মানুষ তাত্ক্ষণিক আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন, আর স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে কাজ করতে সক্ষম এবং মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে।

বৈদ্যুতিক ও পানীয় জলের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধসে পড়ার ফলে প্রায় ৭৪০,০০০ মানুষ বিষাক্ত বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংখ্যা গাজা অঞ্চলের সামগ্রিক মানবিক সংকটকে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে চিহ্নিত করার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রীরা গাজায় রক্তপাতের অবসান এবং ইসরায়েলি বন্দীদের মুক্তির দিকে অগ্রগতি সাধিত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েও জোর দেন যে বেসামরিক জনগণের কষ্ট উপেক্ষা করা যাবে না। তারা ইসরায়েল সরকারকে ত্বরিত ও অপরিহার্য পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাজকে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে গাজায় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন আইনি বাধা দূর করা, যাতে তারা নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়, এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৩১ ডিসেম্বরের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল সরকার নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপের ফলে বহু প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এনজিওর নিবন্ধন বাতিলের হুমকি রয়েছে।

এছাড়াও, জাতিসংঘ ও তার অংশীদার সংস্থাগুলোর গাজায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদান এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউস) সামগ্রী, বিশেষত চিকিৎসা ও আশ্রয় সরঞ্জামের উপর আরোপিত অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা মানবিক সাহায্যের সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মন্ত্রীরা উল্লেখ করেন।

মানবিক সাহায্যের প্রবাহ বাড়াতে গাজা সীমান্তে গেটওয়ে খোলার কথাও বিবৃতিতে উঠে এসেছে। আলোনবি সীমান্তের আংশিক খোলাকে স্বাগত জানিয়ে, রাফাহসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ে এখনও বন্ধ বা কঠোর সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

বিক্রয়-কর কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং ব্যাপক স্ক্রিনিংয়ের ফলে মানবিক সামগ্রী গাজায় পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, যা সরবরাহের সময়সূচি ব্যাহত করছে। এই প্রক্রিয়াগুলোর সরলীকরণ এবং দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান মন্ত্রীরা পুনরায় জোর দিয়েছেন।

বৈশ্বিক পর্যায়ে গাজা সংকটের ওপর এই দশটি দেশের সমন্বিত অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত বহন করে। যৌথ বিবৃতি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায়, ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকান দেশগুলোর কূটনৈতিক সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। গাজা মানবিক সংকটের সমাধানে এই দেশগুলোর সমন্বিত চাপ ইসরায়েল সরকারকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বাধ্য করতে পারে।

বিবৃতিতে উল্লেখিত শেষ সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বরের দিকে ইঙ্গিত করে যে, শীঘ্রই গাজা অঞ্চলে মানবিক সহায়তার প্রবাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতি পরিবর্তন ও সীমান্ত খোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই সময়সীমা পার হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়িয়ে, গাজা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রত্যাশিত।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments