ইউরোস্টার কোম্পানি চ্যানেল টানেলের বিদ্যুৎ সরবরাহে ত্রুটির ফলে লন্ডন, প্যারিস, আমস্টারডাম ও ব্রাসেলসের মধ্যে চলা সকল আন্তর্জাতিক ট্রেনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। এই ব্যাঘাতটি ছুটির মৌসুমে ঘটেছে, ফলে ভ্রমণ‑সামগ্রী বহনকারী বহু যাত্রী বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের অস্থায়ী বিচ্ছিন্নতা ঘটার পর টানেলের ভিতরে চলমান একটি শাটল ট্রেন হঠাৎ থেমে যায়। টানেলের পরিচালনাকারী ইউরোটানেল জানায়, সমস্যাটি টানেলের এক অংশে শুরু হয়েছে এবং উভয় দিকের যাত্রী ও গাড়ি চলাচলেই প্রভাব ফেলেছে।
ইউরোস্টার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, লন্ডন‑মুখী সব যাত্রা অবিলম্বে স্থগিত করা হয়েছে এবং পরিষ্কার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রেন চালু হবে না। কোম্পানি ১৫:৩০ GMT-এ তার ওয়েবসাইটে এই বিদ্যুৎ ত্রুটি এখনও বিদ্যমান বলে সতর্কতা জানায়।
ইউরোটানেলও একই সময়ে জানিয়েছে, সমস্যার মূল কারণ টানেলের নির্দিষ্ট অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাঘাত, যা প্যাসেঞ্জার ও ভেহিকল ট্রাফিক দুটোই থামিয়ে দিয়েছে। টানেলের রক্ষণাবেক্ষণ দল বর্তমানে প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সেবা দ্রুত পুনরায় চালু করা যায়।
প্রযুক্তিগত কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকালে ধীরে ধীরে ট্রাফিক পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরো সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, কারণ টানেলের জটিল অবকাঠামোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার।
এই ঘটনার ফলে লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস এবং প্যারিসের গার দ্য নর্ড স্টেশনগুলোতে বিশাল ভিড় জমে। বহু যাত্রীর হাতে স্যুটকেস, ব্যাগেজ এবং ছুটির পরিকল্পনা রয়েছে, যা হঠাৎ করে বাতিল হয়ে গিয়েছে। স্টেশনগুলোতে তথ্যবহুল সাইনেজ ও কর্মী উপস্থিতি সত্ত্বেও, যাত্রীরা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে সংগ্রাম করছে।
একটি দম্পতি, যারা প্যারিসে ছুটির সময় তাদের নবজাতক শিশুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, লন্ডনে ফিরে যাওয়ার জন্য বিমান টিকিটের সন্ধান নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা ৩০তম জন্মদিন উদযাপন করতে চেয়েছিলেন, তবে ট্রেন বাতিল হওয়ায় পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অন্য একটি যাত্রী, যিনি নতুন বছরের জন্য লন্ডনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর পর অবশেষে ছুটি, কিন্তু ট্রেন বারবার থেমে, এখন সব বিকল্পই পূর্ণ।”
অনেক যাত্রী বিমান, বাস বা গাড়ি ভাড়া করে ভ্রমণ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ছুটির শীর্ষ সময়ে এই বিকল্পগুলোতে স্থান সীমিত এবং দামের বৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে, যা ভ্রমণ ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, ইউরোস্টারের এই অপ্রত্যাশিত বন্ধন কোম্পানির ছুটির মৌসুমের আয়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে। উচ্চ চাহিদার সময়ে ট্রেন বাতিল হওয়ায় টিকিট রিফান্ড, পুনঃবুকিং ও গ্রাহক সেবা খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে, এয়ারলাইন ও বাস কোম্পানিগুলোর জন্য স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে, যা বাজারে সাময়িক শেয়ার পরিবর্তন আনতে পারে।
ইউরোটানেলের জন্যও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টানেলটি প্যাসেঞ্জার ট্রাফিকের পাশাপাশি ইউরোপীয় রেল ফ্রেইটের প্রধান রুট। বিদ্যুৎ সমস্যার ফলে পণ্য পরিবহনের সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত লজিস্টিক খরচের ঝুঁকি বাড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের অবকাঠামোগত ব্যাঘাতের পুনরাবৃত্তি ইউরোস্টার ও ইউরোটানেলের শেয়ার মূল্যে অস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও রিডান্ডেন্সি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার প্রভাব কমানো যায়।
সংক্ষিপ্তমেয়াদে, ইউরোস্টারকে দ্রুত সেবা পুনরায় চালু করার জন্য প্রযুক্তিগত দলকে সম্পূর্ণ সম্পদ বরাদ্দ করতে হবে এবং গ্রাহকদের রিফান্ড ও বিকল্প ভ্রমণ ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে, ইউরোটানেলকে টানেলের বিদ্যুৎ সরবরাহের রিডান্ডেন্সি বাড়িয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ ব্যাঘাত রোধের জন্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো না মাত্র গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে, বরং ছুটির মৌসুমে রেল ট্র্যাভেলকে পুনরায় মূল বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে।



