বাংলাদেশ ব্যাংক আজ নতুন ব্যাংক রেজোলিউশন স্কিম চালু করে পাঁচটি মর্জি শারিয়া‑ভিত্তিক ব্যাংকের জমা রিফান্ডের নীতি নির্ধারণ করেছে। স্কিমের আওতায় কোন গ্রাহকরা প্রথমে সম্পূর্ণ অর্থ পাবে এবং বাকি টাকা কীভাবে ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
স্কিমের মূল নীতি হল ছোট জমাকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স থাকা ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং স্কিমের কার্যকর তারিখ থেকে যেকোনো সময় তাদের টাকা তোলার অধিকার পাবেন।
বিশেষভাবে রোগী ও দুর্বল গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে। ক্যান্সার রোগী বা কিডনি ডায়ালিসে থাকা ব্যক্তিরা তাদের জমার পরিমাণ যাই হোক না কেন, তোলার কোনো সীমা থাকবে না।
এর পরের স্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুইটি ফান্ড, যৌথ উদ্যোগের কোম্পানি, বহুজাতিক সংস্থা, রেজোলিউশনের অধীনে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এবং বিদেশি দূতাবাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সেক্টরগুলোকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।
দুই লাখ টাকার উপরে ব্যালেন্স থাকা জমাকারীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থ তৎক্ষণাৎ পাওয়া যাবে না। প্রথম দুই লাখ টাকার পর অতিরিক্ত টাকা প্রতি তিন মাসে এক লাখ টাকার কিস্তিতে মুক্তি পাবে। জমার আকারের ওপর নির্ভর করে পুরো টাকা পেতে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
স্থায়ী ও মেয়াদী জমার ক্ষেত্রে স্কিম স্বয়ংক্রিয় নবায়ন ব্যবস্থা প্রয়োগ করবে। তিন মাসের মেয়াদী জমা তিনবার পুনর্নবায়ন হবে, আর এক থেকে দুই বছরের মেয়াদী জমা তিন বছরের দীর্ঘ মেয়াদে রূপান্তরিত হবে।
লাভের হার নির্ধারণে ব্যাংক রেটের এক শতাংশ পয়েন্ট কম রাখা হয়েছে, যা পূর্বে ব্যাংকগুলো যে হার দিতো তার চেয়ে কম হতে পারে। এই হ্রাসের ফলে গ্রাহকদের আয় কিছুটা কমে যেতে পারে, তবে রিফান্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানিক জমার জন্য আলাদা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা রাখা ফিক্সড ডিপোজিটগুলোকে স্কিমের অধীনে নির্দিষ্ট শর্তে পরিচালনা করা হবে, যদিও বিস্তারিত শর্তাবলী এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই রেজোলিউশন স্কিমের লক্ষ্য হল মর্জি শারিয়া ব্যাংকগুলোকে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। স্কিমের কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, ছোট জমাকারীদের দ্রুত রিফান্ড নিশ্চিত করা গ্রাহক আস্থা বাড়াবে এবং ব্যাংক সেক্টরের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করবে। তবে বড় জমাকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী রিফান্ড প্রক্রিয়া কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি বাজারের সুদের হার পরিবর্তনশীল হয়।
ভবিষ্যতে স্কিমের বাস্তবায়ন কিভাবে চলবে তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি রিফান্ডের কিস্তি সময়মতো না হয়, তবে তা আর্থিক বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ব্যাংক সেক্টরের পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন রেজোলিউশন স্কিম ছোট ও দুর্বল গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেয়, আর বড় জমাকারীদের জন্য ধাপে ধাপে রিফান্ডের পরিকল্পনা করে। স্কিমের সফলতা নির্ভর করবে সময়মতো কিস্তি প্রদান এবং সুদের হার সমন্বয়ের উপর।



