জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এর জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি আরিফ সোয়েল আজ বিকেলে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে পার্টি ত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক যাত্রা, জুলাই ২০২৪ সালের উত্থান এবং এনসিপি গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। ত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং পুরনো দলীয় চুক্তি-সদ্ভাবনা পুনরায় প্রতিষ্ঠার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
সোয়েলের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই উত্থানের পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ভূত একটি নতুন গণরাজনীতির প্রচেষ্টা ছিল, যা রক্তাক্ত সংগ্রামের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ভিত্তিতে এনসিপি একটি ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল, তবে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পার্টির মধ্যে পুনরায় বিভাজনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী দলীয় চুক্তি-সদ্ভাবনা পুনরায় শাসন করতে শুরু করেছে।
আরিফ সোয়েল আরও উল্লেখ করেন, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য হল ক্ষমতার আসন দখল করা। তিনি এই দলগুলোকে ‘কম খারাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে কোনো দোষের তুলনায় ছোট দানবও দানবই থাকে, এটাই তার দৃষ্টিভঙ্গি। এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি পার্টির বর্তমান দিকনির্দেশনা ও নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এখন তার এবং তার সহকর্মীদের দায়িত্ব হল ঐতিহ্যবাহী দলীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে আবার জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া। তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য শুরু করা সংগ্রামকে অব্যাহত রাখতে চান এবং এজন্য এনসিপি ত্যাগ করা প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। এভাবেই তিনি জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি, সেন্ট্রাল কমিটির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি সমর্থকদের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে, চলমান সংগ্রামে সকলের সহযোগিতা ও আশীর্বাদ কামনা করেন। তিনি ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য নতুন উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি দেন এবং জনগণের সঙ্গে পুনরায় সংহতি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই পদত্যাগের ফলে এনসিপি-র কেন্দ্রীয় কমিটিতে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন এই শূন্যতা পূরণের জন্য নতুন সদস্য নির্বাচন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, আরিফ সোয়েলের ত্যাগ এনসিপি-র জন্য একটি সংকেত হতে পারে, যা পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলবে। তার মতো প্রভাবশালী নেতা যদি পার্টি ত্যাগ করেন, তবে অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি এনসিপি-কে নতুন কৌশল গড়ে তোলার এবং জনমতকে পুনরায় জয় করার জন্য ত্বরান্বিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, আরিফ সোয়েলের পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি নতুন মোড়ের সূচনা নির্দেশ করে। তার সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত নীতি ও গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার রয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পুনর্গঠন ও নতুন সংহতির দিকে ধাবিত হতে পারে। এই পরিবর্তন কীভাবে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



