মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নয় দিনের আক্রমণে প্রায় পঁচিশজন ইসিল (আইএসআইএস) যোদ্ধা নিহত অথবা গ্রেফতার হয়েছে। এই অভিযানটি ডিসেম্বর ২০ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে একারোটি মিশনে সম্পন্ন হয় এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে চালু করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মিশনগুলিতে অন্তত সাতজন ইসিল সদস্য গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, বাকি সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ইসিল অস্ত্র গুদাম ধ্বংসের মাধ্যমে গ্রুপের লজিস্টিক ক্ষমতা হ্রাস করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে অপারেশনের পরিসর ও ফলাফল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসিলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শুরুর সময় মার্কিন সেনাবাহিনী সিরিয়ায় সর্বোচ্চ দুই হাজার সৈনিক মোতায়েন করেছিল; বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় এক হাজারে নেমে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই বছর দেশীয় ভিত্তি ও সৈন্যবাহিনীর সংখ্যা আরও কমানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে, যা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ইসিল সিরিয়া ও ইরাকে বিশাল এলাকা দখল করে ছিল; যদিও ২০১৯ সালে তাদের ভূখণ্ডিক জয় শেষ হয়ে গেছে, তবু অবশিষ্ট গোষ্ঠী এখনও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, এই অবশিষ্ট গোষ্ঠী গোপনীয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন আক্রমণের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (SDF) এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা বজায় রেখেছে। বশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর, CENTCOM নতুন সিরিয়ান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে, যা অঞ্চলের জটিল রাজনৈতিক গঠনকে বিবেচনায় নিয়ে কূটনৈতিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করে।
সিরিয়া সরকারও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ইসিল বিরোধী জোটে যোগ দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারআ, যিনি একসময় আল-কায়দার সঙ্গে সংযুক্ত গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন, গত মাসে ওয়াশিংটন ডি.সি.তে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে জোটে অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই পদক্ষেপটি সিরিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার পাশাপাশি ইসিলের অবশিষ্ট কার্যক্রম দমনেও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিসেম্বর ১৯ তারিখে চালানো আক্রমণে একাধিক ফাইটার বিমান, আক্রমণ হেলিকপ্টার এবং আর্টিলারির সমন্বয়ে ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে একশেরও বেশি সুনির্দিষ্ট গুলি চালানো হয়। এই বিশাল আক্রমণ ইসিলের অবকাঠামোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার মধ্যে সঞ্চারন কেন্দ্র, গুদাম এবং প্রশিক্ষণ শিবির অন্তর্ভুক্ত। অপারেশনটি উচ্চ প্রযুক্তির নির্ভুলতা ও সমন্বিত কৌশল ব্যবহার করে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণের মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই সিরিজের আক্রমণ সিরিয়ার উত্তরে নিরাপত্তা শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ইসিলের অবশিষ্ট শক্তিকে দুর্বল করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা, স্থানীয় শক্তির সঙ্গে সমন্বয় এবং মানবিক সহায়তা একসাথে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর উপস্থিতি হ্রাসের সময়সূচি, সীমানা রক্ষা করার জন্য নতুন চুক্তি এবং সিরিয়ার সরকার ও SDF এর মধ্যে সমন্বয় প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, দশ দিনেরও কম সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর তীব্র আক্রমণ সিরিয়ায় প্রায় পঁচিশজন ইসিল যোদ্ধা নিহত বা গ্রেফতার করেছে, চারটি অস্ত্র গুদাম ধ্বংস করেছে এবং ইসিলের অবকাঠামোতে বড় আঘাত হানেছে। এই ফলাফলটি ইসিলের অবশিষ্ট ক্ষমতাকে সীমিত করার পাশাপাশি সিরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।



