২৪টি এন্টারপ্রাইজ‑কেন্দ্রিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের সমীক্ষা প্রকাশের পর, বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ২০২৬ সালে কোম্পানিগুলোর AI ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন। তবে এই বৃদ্ধি বিস্তৃত নয়; বরং সীমিত সংখ্যক সরবরাহকারীর ওপর কেন্দ্রীভূত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন AI টুলের পাইলট ও টেস্ট চালিয়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের চেষ্টা করেছে। এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে বহু স্টার্টআপ এবং সফটওয়্যার বিক্রেতা বাজারে প্রবেশ করে প্রতিযোগিতা তীব্র করেছে। এখন বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন এই পরীক্ষামূলক সময় শেষের দিকে।
সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৪টি ভিসি ফার্মের বেশিরভাগই একমত যে, এন্টারপ্রাইজগুলো AI-তে ব্যয় বাড়াবে, তবে তা একাধিক সরবরাহকারীর মধ্যে ছড়িয়ে না দিয়ে কয়েকটি নির্বাচিত টুলে কেন্দ্রীভূত হবে। এই প্রবণতা কোম্পানিগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনা ও ROI বাড়ানোর উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে।
ডেটাব্রিক্স ভেঞ্চার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু ফার্গুসন উল্লেখ করেন, ২০২৬ সাল হবে সেই সময় যখন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের AI বিনিয়োগকে একত্রিত করে সেরা পারফরম্যান্স দেয়া সরবরাহকারীদের নির্বাচন করবে। বর্তমানে একই ব্যবহারিক ক্ষেত্রে একাধিক টুল পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা প্রুফ‑অফ‑কনসেপ্ট পর্যায়ে পার্থক্য নির্ণয়কে কঠিন করে তুলছে।
ফার্গুসনের মতে, বাস্তবিক ফলাফল দেখা মাত্রই কোম্পানিগুলো পরীক্ষামূলক ব্যয় কমিয়ে, ওভারল্যাপিং টুলগুলো বাদ দিয়ে সেসব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াবে, যেগুলো স্পষ্ট ফলাফল দেখাচ্ছে। এভাবে সঞ্চিত তহবিল পুনরায় কার্যকর AI সমাধানে রূপান্তরিত হবে।
অ্যাসিমেট্রিক ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ম্যানেজিং পার্টনার রব বেডারম্যানও একই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। তিনি পূর্বাভাস দেন যে, এন্টারপ্রাইজের AI ব্যয় সামগ্রিকভাবে কয়েকটি প্রধান বিক্রেতার দিকে সংকুচিত হবে, আর বাকি বেশিরভাগ কোম্পানি তাদের আয় স্থিতিশীল থাকবে অথবা চুক্তি হ্রাস পাবে।
বেডারম্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফলাফল স্পষ্টভাবে প্রদর্শনকারী AI পণ্যগুলোর জন্য বাজেট বাড়বে, আর অন্যান্য পণ্যের জন্য ব্যয় তীব্রভাবে কমে যাবে। ফলে বাজারে একটি দ্বিমুখী বিভাজন দেখা যাবে, যেখানে কিছু বিক্রেতা অতি বড় শেয়ার দখল করবে।
নরওয়েস্ট ভেঞ্চার পার্টনার্সের পার্টনার স্কট বিচুকের দৃষ্টিভঙ্গি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো AI ব্যবহারের নিরাপত্তা ও তদারকি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় টুলে বেশি বিনিয়োগ করবে।
বিচুকের মতে, AI প্রযুক্তি গ্রহণের মূল চ্যালেঞ্জ এখন নিরাপত্তা, ডেটা গোপনীয়তা এবং নিয়ন্ত্রক সম্মতি। এই চাহিদা মেটাতে নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক, মডেল মনিটরিং এবং অডিটিং সিস্টেমের চাহিদা বাড়বে।
সারসংক্ষেপে, ভিসি ফার্মগুলো ভবিষ্যতে এন্টারপ্রাইজের AI ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, তবে তা সীমিত সংখ্যক, প্রমাণিত ফলাফল প্রদানকারী বিক্রেতার দিকে কেন্দ্রীভূত হবে বলে আশা করছেন। এই প্রবণতা AI বাজারকে আরও সংহত ও পরিণত করবে।
বাজারের এই পরিবর্তন কোম্পানিগুলোর জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেবে, যেখানে সঠিক সরবরাহকারী নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণই মূল চাবিকাঠি হবে। ভবিষ্যতে AI প্রযুক্তি কীভাবে কাজের ধরণ ও ব্যবসায়িক মডেলকে রূপান্তরিত করবে, তা এই কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগের ফলাফলে নির্ভরশীল হবে।



