খালেদা জিয়া, বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে মৃত্যুবরণ করার পর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার নয়াবস্তি পাড়া শোকের মেঘে ঢাকা পড়েছে। জন্মস্থানেই তার শৈশবের বেশ কয়েক বছর কেটেছে, তাই এই পাড়া তার স্মৃতিতে বিশেষ স্থান অধিকার করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা সমবেত হয়ে তার প্রতি শোক প্রকাশ করছে।
নয়াবস্তি পাড়ার সুনীতি বালা সদর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খালেদা জিয়া কিছু সময় পড়াশোনা করেছিল। বিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা তার স্মরণে একটি স্মরণসভা আয়োজনের কথা জানিয়েছেন, যা স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। এই উদ্যোগটি তার শৈশবের স্মৃতিচারণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তার জীবন থেকে শিক্ষা নিতে সহায়তা করবে।
খালেদা জিয়ার পিতা ইসকান্দর মজুমদার জলপাইগুড়িতে ‘দাশ অ্যান্ড কোম্পানি’তে ব্যাংকিং ও শেয়ার লেনদেনের কাজে যুক্ত ছিলেন। ভাগের পর তিনি মুখার্জি পরিবারের সঙ্গে জমি বিনিময় করে পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান এবং আর কখনো ফিরে আসেননি। তবে তার আত্মীয়স্বজন নিয়মিত এই এলাকায় আসা-যাওয়া করে, যা স্থানীয় সমাজে তার পরিবারের উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
নয়াবস্তি পাড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শতাব্দী প্রাচীন ফ্রেন্ডস ব্যাপটিস্ট চার্চের পাশে খালেদা জিয়ার পরিবারের পুরনো বাগান বাড়ি অবস্থিত। বর্তমানে ঐ সম্পত্তির কিছু অংশ চক্রবর্তী ও গোপ পরিবারে ভাগ হয়েছে। গোপ পরিবার এই জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছে, এবং জোরনা গোপ ও নীলকন্ঠ গোপ উভয়ই পরিবারের সদস্য হিসেবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের শোকের প্রকাশনা স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
ডিএসএ (ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন) সচিব ভোলা মণ্ডল উল্লেখ করেছেন, তার মা খালেদা জিয়ার কোলেপিঠে বড় হয়েছেন। তিনি অতীতে প্রকাশিত সাহিত্যিক কামাখ্যা চক্রবর্তীর বই থেকে তথ্য তুলে ধরে বলেছেন, ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার মুখার্জি পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি বিনিময় করে পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়। এই তথ্য স্থানীয় ইতিহাসে পরিবারগত স্থানান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইতিহাসবিদ ডক্টর আনন্দ গোপাল ঘোষের মতে, ইসকান্দর মিঁঞা চায়ের ব্যবসার সূত্রে জলপাইগুড়ি আসেন এবং ১৯৫০ সালের পর পরিবারটি এই শহর ত্যাগ করে। তিনি অতীতের এই বাণিজ্যিক সংযোগকে অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক গঠনে একটি মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিখ্যাত ফুটবলার ফজলার রহমানের পুত্র পুটু রহমানও জানান, তার বাবার সঙ্গে খালেদা জিয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পুতু রহমানের বিবরণে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার পিতা চাকরি সূত্রে জলপাইগুড়ি এসেছিলেন, পরে চায়ের ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পরিবারকে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ করেন। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সমাজে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তার জন্মস্থলের শোকের পরিবেশ রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় দল ও সংগঠনগুলো তার স্মরণে সমাবেশের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের মনোভাব গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, তার শৈশবের বিদ্যালয়ে পরিকল্পিত স্মরণসভা স্থানীয় যুবকদের মধ্যে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা রাখে।



