কোর অব মিলিটারি পুলিশ (CMP) সাভার সেনানিবাসে অবস্থিত সিএমপি সেন্টার এন্ড স্কুলে ২০২৫ সালের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, যিনি ইভেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই সভা কোরের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ নীতি, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আলোচনা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।
সিএমপি সেন্টার এন্ড স্কুল, যা কোরের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, এই সম্মেলনের আয়োজনের মূল ভূমিকা পালন করেছে। সেন্টারের আধুনিক অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করে কোরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ও সদস্যদের একত্রিত করা হয়। সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল কোরের সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা।
প্রধান অতিথি জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান সিএমপি সেন্টার এন্ড স্কুলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নবনিযুক্ত কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, জিওসি, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়া, এবং সিএমপি সেন্টার এন্ড স্কুলের কমান্ড্যান্টের দ্বারা স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে কোরের অধিনায়কগণ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সম্মেলনে জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান কোরের সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা প্রকল্প এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কোরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, যার মধ্যে নতুন প্রশিক্ষণ মডিউল ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত, তা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন। এছাড়া তিনি কোরের কর্মীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করার কথা উল্লেখ করেন।
বক্তৃতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আত্মত্যাগ করা কোরের বীর সেনানী ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করা হয়। জেনারেল কোরের ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা, যা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন। তিনি কোরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে দেশের সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দেশের গর্বের কথা তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোরের অবদানকে প্রশংসা করে জেনারেল কোরের প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে কোরের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও মিশনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই প্রশংসা কোরের সদস্যদের মনোবল বাড়াতে এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক মিশনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা জাগাতে সহায়তা করবে।
সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, জিওসি, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড, সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল, জিওসি, ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়া, এবং সাভার এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ ছিলেন। এছাড়া কোরের সব সিএমপি ইউনিটের অধিনায়কগণ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশ কোরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও বাহ্যিক যোগাযোগকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, গত ২৯ ডিসেম্বর কোরের ৭ম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লে. জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে অভিষিক্ত করা হয়েছিল। এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি সাভার সেনানিবাসের সিএমপি সেন্টার এন্ড স্কুলের প্রাঙ্গণে সামরিক রীতি ও ঐতিহ্য অনুসারে সম্পন্ন হয়। অভিষেকের সময় নবনিযুক্ত কর্নেল কমান্ড্যান্টকে কোরের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানানো হয়।
অভিষেকের পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কোরের নতুন নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত লক্ষ্য স্পষ্ট করা হয়। জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান কোরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিকনির্দেশনা তুলে ধরে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ করেন। সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কোরের সদস্যদের পরবর্তী প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রমের সূচনা ঘোষণা করা হয়, যা দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।



