মঙ্গলবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন অভিযোগের লড়াই তীব্রতর হয়েছে। রাশিয়ার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভের মতে, নোভগোরদের একটি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বসবাসস্থলে ইউক্রেনের ৯১টি দীর্ঘপরিসরের ড্রোন আক্রমণ করেছে, যা রাশিয়ার বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। রাশিয়া এই ঘটনাকে শান্তি আলোচনার পথে বাধা হিসেবে উপস্থাপন করে, আর ইউক্রেন এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেছে।
পেস্কভ টেলিভিশনে জানিয়েছেন, ড্রোন আক্রমণটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং রাশিয়ার সামরিক বাহিনী কবে, কীভাবে সাড়া দেবে তা ইতিমধ্যে নির্ধারণ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনার ফলে রাশিয়ার আলোচনায় অবস্থান আরও কঠোর হবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা টুইটারে রাশিয়ার দাবিকে “মিথ্যা অভিযোগ” বলে চিহ্নিত করেন এবং উল্লেখ করেন, মস্কো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কোনো আক্রমণ ঘটেনি এবং রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করে আসছে। সিবিহা রাশিয়ার এই কৌশলকে “স্বভাবগত কৌশল” বলে বর্ণনা করে, যা তাদের পরিকল্পিত কর্মকে অন্যের দোষারোপের মাধ্যমে ঢেকে রাখে।
ইউক্রেনের এই মন্তব্যের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত এবং পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার দাবির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে। সিবিহা এই দেশগুলোর মন্তব্যকে “অপ্রয়োজনীয় এবং অযৌক্তিক” বলে সমালোচনা করে, এবং উল্লেখ করেন যে তারা এমন একটি ঘটনার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যা বাস্তবে ঘটেনি।
পেস্কভ যখন ড্রোন আক্রমণের প্রমাণের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন, তিনি জানান বায়ু প্রতিরক্ষা সিস্টেম ড্রোনগুলোকে ধ্বংস করেছে, তবে ধ্বংসাবশেষের বিশ্লেষণ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। তিনি সরাসরি কোনো ধ্বংসাবশেষের ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেননি।
এই পারস্পরিক অভিযোগের ফলে রাশিয়া-ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেস্কভের মতে, রাশিয়া এখন থেকে আলোচনায় আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে, যা পূর্বে চালু হওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগকে পিছিয়ে দিতে পারে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা এবং রাশিয়ার প্রমাণের অভাবকে তুলে ধরা, দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সময়কাল জুড়ে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মতামত গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। পূর্বে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর সাইবার আক্রমণ, গ্যাস সরবরাহ বাধা এবং সশস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে, আর ইউক্রেনও রাশিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেসামরিক নাগরিকের ওপর আক্রমণকে আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরেছে। এই ধারাবাহিক অভিযোগ-প্রত্যাখ্যানের প্যাটার্ন কূটনৈতিক সমঝোতার পথকে কঠিন করে তুলছে।
আসন্ন মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য শীর্ষ সম্মেলন এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যস্থতায় আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের বর্তমান অবস্থান এবং পারস্পরিক অভিযোগের তীব্রতা বিবেচনা করলে, এই আলোচনার ফলাফল অনিশ্চিতই রয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, উভয় দেশকে বাস্তব প্রমাণের ভিত্তিতে সমঝোতার পথে এগিয়ে নেওয়া, যাতে মানবিক ক্ষতি কমিয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া যায়।



