22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরান ট্রাম্পের নতুন হামলা হুমকির পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে সতর্ক করেছে

ইরান ট্রাম্পের নতুন হামলা হুমকির পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে সতর্ক করেছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আবার তীব্রতর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সামরিক আক্রমণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টুইটার (X) প্ল্যাটফর্মে ইরানকে কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে কঠোর ও অনুতাপজনক প্রতিক্রিয়া জানাতে সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্পের মন্তব্য ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রকাশিত হয়। দুজন নেতার মধ্যে ইসরায়েল-ইরান বিরোধের ঐতিহাসিক বর্ণনা পুনরায় উত্থাপিত হয় এবং ট্রাম্প ইরানকে “আবার গড়ে তোলার” চেষ্টা করলে তা “ধ্বংস” করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যদি ইরান আবার গঠন করতে চায়, তবে আমরা তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করব”।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার X-এ একটি সতর্কবার্তা পোস্ট করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের মুখে ইরানের প্রতিক্রিয়া “গুরুতর এবং অনুতাপজনক” হবে। এই মন্তব্যটি ট্রাম্পের একই দিনে প্রকাশিত মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই প্রকাশিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের নীতি মূলত ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রামকে লক্ষ্য করে ছিল, যদিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা দীর্ঘদিন ইসরায়েলের উদ্বেগের বিষয়। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি প্রথমবারের মতো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধার ওপর সরাসরি আক্রমণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ইরান সরকার পারমাণবিক কার্যক্রমকে শুধুমাত্র নাগরিক উদ্দেশ্যে চালু বলে দাবি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্বারা পরিচালিত আক্রমণের আগে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের প্রমাণ পাইনি।

ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম নিয়ে কোনো আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি এবং এই ক্ষেত্রে কোনো সমঝোতা স্বীকার করতে অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরান ধীরে ধীরে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ পুনর্গঠন করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা জুনের সংঘাতে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল।

জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের তীব্র যুদ্ধের পরিণতি এখনও স্মরণীয়। ঐ যুদ্ধের ফলে ইরানে প্রায় এক হাজার একশত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আর ইসরায়েলে ২৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই মানবিক ক্ষতি উভয় দেশের মধ্যে শত্রুতা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি পুনরায় উন্মোচিত করেছে।

ইসরায়েলি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম থামাতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজনীয় হতে পারে। এই অবস্থান ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির করে তুলতে পারে।

প্রতিপক্ষের এই তীব্র রেটোরিকের ফলে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকি এবং ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া উভয়ই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পরবর্তী সপ্তাহে দু’দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা না হলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যেখানে বহু দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সমঝোতার চিহ্ন দেখা যায়নি, এবং উভয় পক্ষের রেটোরিকের তীব্রতা ভবিষ্যতে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা অনিশ্চিত রাখছে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments