বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে নয়জন নেতা পার্টি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। রুমিন ফারহানা এবং সাইফুল আলম নীরবসহ এই নেতারা পার্টির সিদ্ধান্তের বিরোধীভাবে সংগঠনগত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছে। রিলিজটি পার্টির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল কবির রিজভি স্বাক্ষরিত।
প্রেস রিলিজে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উল্লিখিত নেতারা পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা ও নীতি অনুসরণে ব্যর্থ হয়ে সংগঠনগত কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন, যা পার্টির শৃঙ্খলা ও ঐক্যের ক্ষতি করেছে। ফলে তাদেরকে পার্টির সকল স্তরের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং পদ থেকে অবিলম্বে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে পার্টি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে।
বিএনপি সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয় সচিব ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, যিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পার্টির বৈদেশিক নীতি সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, প্রথমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তিনি পার্টির আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন, তবে পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা উপেক্ষা করার অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আবদুল খালেকও একই রকম অভিযোগে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা পার্টির নীতি বিরোধীভাবে স্থানীয় সংগঠন গঠন ও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী বলে রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় ছাত্রদল (জেসিডি) এর প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সচিব টারুন দে, যিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করতেন, তাও পার্টির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন। তার ভূমিকা পার্টির সামাজিক সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে পার্টির শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে পদত্যাগের বদলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি বিএনপি’র প্রাক্তন সমন্বয়কারী সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপি’র উপ-সভাপতি মামুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বানচরামপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি কৃষক মেহদি হাসান পলাশও একই রকম কারণেই পার্টি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের স্থানীয় সংগঠন গঠনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তবে পার্টির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণে ব্যর্থতা তাদের বহিষ্কারের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস রিলিজে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, উপরে উল্লিখিত সকল নেতাকে পার্টির মূল সদস্যপদ এবং প্রতিটি স্তরের পদ থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা আর কোনোভাবে বিএনপি’র কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। পার্টি এই সিদ্ধান্তের কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে দেশের নাগরিকদের স্নেহ, ভালোবাসা ও বৈশ্বিক সম্মানের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে পুনরায় জোর দিয়েছেন এবং সকল সদস্যকে পার্টির নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিএনপি পূর্বে অনুরূপ কারণের ভিত্তিতে নেতাদের বহিষ্কারের ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পার্টি নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ সমাধানের জন্য একই রকম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।
এই বহিষ্কারের পর পার্টি অভ্যন্তরে নতুন নেতৃত্ব গঠন ও সংগঠনগত কাঠামো পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব প্রকাশিত হয়নি। পার্টি সংশ্লিষ্ট সকল স্তরে এই সিদ্ধান্তের কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



