মেঘনা নদীর হিজলা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় কোস্টগার্ডের এক সমন্বিত অভিযান শেষ হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ইলিশা, কালিগঞ্জ ও হিজলা স্টেশনের কোস্টগার্ড কর্মীরা হিজলা উপজেলার সাওড়া সৈয়দখালী এলাকায় পাঁচটি ড্রেজার এবং একটি ট্রলারসহ মোট ২১ জনকে আটক করে।
অটকৃতদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন; তাকে মুচলেকা রেখে মুক্ত করা হয়। বাকি ২০ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে হিজলা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত ড্রেজার ও ট্রলার বর্তমানে কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে।
অভিযানের সময় চারটি দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. সিয়াম উল হক জানান, এই অভিযানটি বালুমহাল আইনের লঙ্ঘন রোধ এবং নদীর পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, কোস্টগার্ডের ইলিশা, কালিগঞ্জ ও হিজলা স্টেশনগুলো একত্রে কাজ করে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
হিজলা থানার ওসি অলিদ হোসেনও একই সময়ে জানিয়েছেন, আটক ২০ জনকে কোস্টগার্ডের ওপর হামলা, সরকারি কাজের বাধা এবং বালুমহাল আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ী করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, তারা জেলহাজারে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান। হিজলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা জানিয়েছেন, মামলাগুলোতে প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী বিবৃতি নেওয়া হবে, যাতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। কোস্টগার্ডের দায়িত্বে থাকা আইনগত বিভাগও তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা, যা পরিবেশগত ক্ষতি এবং স্থানীয় মাছ ধরা শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, বালু উত্তোলন কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ না হলে নদীর বেডের ক্ষয়, বাস্তুতন্ত্রের ব্যাঘাত এবং স্থানীয় জনগণের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
কোস্টগার্ডের এই পদক্ষেপটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে। হিজলা উপজেলার উঁচু-নিচু এলাকার গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বালু উত্তোলনের গতি বাড়ায়ে চলেছে এবং তা তাদের জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছে।
অভিযানের পর, কোস্টগার্ডের ইলিশা, কালিগঞ্জ ও হিজলা স্টেশনের কর্মীরা এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। তারা নিয়মিত গমনাগমন পর্যবেক্ষণ, নৌকা ও সরঞ্জাম পরীক্ষা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর ত্বরিত প্রতিক্রিয়া জানাবে। এছাড়া, স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী ও গ্রাম প্রধানদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের পুনরাবৃত্তি রোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বালুমহাল আইনের অধীনে, অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য শাস্তি কঠোরভাবে নির্ধারিত হয়েছে। অপরাধের প্রকৃতি, ব্যবহৃত সরঞ্জাম, এবং জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা বিবেচনা করে আদালত যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করবে। বর্তমানে, আটক ২০ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শাস্তি হিসেবে জেলহাজারে পাঠানো হয়েছে, তবে চূড়ান্ত রায়ে অতিরিক্ত জরিমানা বা দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।
কোস্টগার্ডের এই অভিযানটি দেশের নদী ব্যবস্থাপনা নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি বারবার জোর দিয়েছে যে, অবৈধ বালু উত্তোলন পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করে এবং তা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। ভবিষ্যতে, সমন্বিত নজরদারি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে বালু উত্তোলনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, বালু উত্তোলনের জন্য অনুমোদিত লাইসেন্সের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পরিদর্শন চালু করা হবে।
সংক্ষেপে, মেঘনা নদীর হিজলা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের সমন্বিত অভিযান সফল হয়েছে; পাঁচটি ড্রেজার, একটি ট্রলার এবং চারটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে, এবং ২০ জনকে জেলহাজারে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে, এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ রোধে আইন প্রয়োগের তীব্রতা বাড়বে এবং নদীর পরিবেশ রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



