অভিনেতা ক্যারি এলওয়েস রোব রেইনার ও তার স্ত্রী মিশেল রেইনারের ১৪ ডিসেম্বর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর, সোমবারই ইনস্টাগ্রামে একটি স্মরণীয় পোস্ট শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি ১৯৮৭ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’ এর সেটের দৃশ্য দেখিয়ে রেইনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যেটি তিনি অভিনয় করেন এবং রেইনার পরিচালনা করেন।
এলওয়েসের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২৪ বছর বয়সে রেইনারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেন এবং সেই মুহূর্ত থেকেই রেইনারের প্রতি গভীর মুগ্ধতা জন্ম নেয়। রেইনারের কাজের প্রতি ইতিমধ্যে ভক্তি ছিল তার, তাই সরাসরি সাক্ষাৎ তার জন্য স্বপ্নের মতো অনুভূতি তৈরি করে।
সেই সাক্ষাতের পর রেইনার তাকে ‘ওয়েস্টলি’ চরিত্রে কাস্ট করেন, যা এলওয়েসের মতে এক প্রাসাদে চাবি পাওয়ার সমান ছিল। তিনি এই সুযোগকে তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং রেইনারের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেন।
এলওয়েস রেইনারের ব্যক্তিত্বের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রেইনার হৃদয়কে বাহিরে প্রকাশ করতে ভয় পান না; তার আবেগ গভীর এবং দয়া-স্নেহে পূর্ণ। রেইনারের জন্য সম্পদ বা সামাজিক অবস্থান কোনো মানদণ্ড ছিল না; তিনি মানুষের নৈতিক গুণাবলিকে বেশি মূল্য দিতেন।
রেইনারের মানুষের মধ্যে সেরা দিকটি খুঁজে বের করার ক্ষমতা এবং সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি তার স্বভাবের অংশ ছিল। পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি তার ভালোবাসা অটুট ছিল এবং তিনি সর্বদা তাদের সমর্থনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। এই মানবিক গুণাবলি তাকে সহকর্মী ও শিষ্যদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় করে তুলেছিল।
চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি রেইনারের দৃষ্টিভঙ্গি এলওয়েসের স্মৃতিতে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। রেইনার বলতেন, চলচ্চিত্রের প্রকৃত মূল্য হল তৈরির প্রক্রিয়ায়, যখন তা দর্শকের হাতে পৌঁছানোর আগে তা নির্মাতার সময়ের এক অংশ। একবার মুক্তি পেলে তা দর্শকের সম্পত্তি হয়ে যায়, তবে নির্মাণের সময়ে তা আপনার নিজের পৃথিবীর এক অংশ, তাই তা সর্বোচ্চ মানের হওয়া দরকার।
সেটের পরিবেশ সম্পর্কে এলওয়েসের মন্তব্যে হাসি-খুশির ছোঁয়া স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’ এর শুটিং চলাকালীন প্রতিটি দিন হাসিতে ভরা ছিল এবং কাজের মধ্যে আনন্দের স্রোত প্রবাহিত হতো। এই আনন্দময় মুহূর্তগুলোই চলচ্চিত্রের সাফল্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ফিল্মের মূল থিম—ভালবাসা, বিশ্বস্ততা এবং ত্যাগ—রেইনারের ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই তিনি এই গল্পের জন্য আদর্শ পরিচালক ছিলেন, যিনি এই নীতিগুলোকে স্ক্রিনে জীবন্ত করে তোলেন। এলওয়েস রেইনারের এই দিকগুলোকে স্মরণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, রেইনারের সঙ্গে কাজ করা তার জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়।
রেইনারের মৃত্যুর পর শিল্প জগতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও তাদের শোক প্রকাশ করেছেন। মার্টিন স্কোরসেসে, ম্যান্ডি প্যাটিনকিন, ক্যাথি বেটসসহ বহু শিল্পী রেইনারের জন্য হৃদয়গ্রাহী বার্তা ও স্মরণীয় মন্তব্য শেয়ার করেছেন, যা রেইনারের শিল্পে অবদানের গভীরতা ও প্রভাবকে পুনরায় তুলে ধরে।
রোব রেইনারের চলচ্চিত্র নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গি, মানবিকতা এবং সৃজনশীলতা আজও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। ক্যারি এলওয়েসের এই স্মরণীয় পোস্ট রেইনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ, যা তার কাজের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা বহন করে। রেইনারের উত্তরাধিকার চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে।



