একটি অত্যন্ত গরম, পাথুরে গ্রহের বায়ুমণ্ডল উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে, যা টেস (TESS) মিশনের ২০২০ সালে আবিষ্কৃত TOI 561b-তে পাওয়া গেছে। এই গ্রহটি পৃথিবীর দ্বিগুণ ভরযুক্ত এবং তার সূর্যের চারপাশে মাত্র দশ ঘণ্টার কম সময়ে পরিক্রমণ সম্পন্ন করে। গবেষকরা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) ব্যবহার করে গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছেন, যা উষ্ণ গ্রহের বায়ুমণ্ডল সংরক্ষণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে।
সাধারণত তারার নিকটবর্তী ছোট পাথুরে গ্রহগুলো দুর্বল গুরুত্ব এবং তীব্র রেডিয়েশনজনিত ক্ষয়জনিত কারণে বায়ুমণ্ডল হারিয়ে ফেলে। দ্রুত গতি করা গ্যাস অণুগুলো সহজে মহাকাশে উড়ে যায়, ফলে গ্রহের পৃষ্ঠে কোনো গ্যাসের স্তর থাকে না। তাই বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই অনুমান করতেন যে এমন গ্রহে বায়ুমণ্ডল টিকে থাকবে না।
TOI 561b-র ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা যায় যে, তার গড় ঘনত্ব পানির চেয়ে চার গুণ বেশি, যা তার আকারের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম ঘনত্ব নির্দেশ করে। গবেষকরা এই অস্বাভাবিকতা ব্যাখ্যা করতে বায়ুমণ্ডলকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন; গ্যাসের স্তর গ্রহকে বড় দেখাতে পারে এবং ঘনত্বকে কমিয়ে দিতে পারে।
JWST-র স্পেকট্রাল ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, গ্রহের পৃষ্ঠে গ্যাসীয় উপাদানের স্বাক্ষর রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণটি গ্রহের তাপমাত্রা বণ্টনেও প্রভাব ফেলেছে। গ্রহটি টাইডালি লকড, অর্থাৎ একই দিকটি সবসময় তার নক্ষত্রের দিকে মুখ করে থাকে। যদি বায়ুমণ্ডল না থাকত, তবে দিনের দিকটি অতিরিক্ত গরম এবং রাতের দিকটি শীতল হতো, ফলে তাপমাত্রার পার্থক্য বিশাল হতো। তবে JWST-র মাপা তাপমাত্রা পার্থক্য প্রত্যাশার চেয়ে কম, যা গ্যাসীয় স্তরের উপস্থিতি নির্দেশ করে।
এই ফলাফলটি এখন পর্যন্ত উষ্ণ, পাথুরে এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডল সংরক্ষণের সবচেয়ে দৃঢ় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষক দল উল্লেখ করেন যে, বায়ুমণ্ডল না থাকলে পর্যবেক্ষিত ডেটা ব্যাখ্যা করা কঠিন হতো; তাই গ্যাসের উপস্থিতি গ্রহের বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য অপরিহার্য।
TOI 561b-র আবিষ্কার এবং এর বায়ুমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্য এক্সোপ্ল্যানেট গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এটি দেখায় যে, অত্যন্ত গরম পরিবেশেও গ্রহের গুরুত্ব ও গ্যাসের পুনরায় সঞ্চয় প্রক্রিয়া বায়ুমণ্ডলকে টিকিয়ে রাখতে পারে। ভবিষ্যতে একই ধরনের গ্রহের আরও বিশদ পর্যবেক্ষণ এই তত্ত্বকে শক্তিশালী বা সংশোধন করতে সাহায্য করবে।
বিজ্ঞানী সম্প্রদায় এখন এই ধরনের গ্রহের গ্যাসের রসায়নিক গঠন, বায়ুমণ্ডলের পুরুত্ব এবং তার দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তথ্যগুলো কেবল এক্সোপ্ল্যানেটের শারীরিক বৈশিষ্ট্যই নয়, সম্ভাব্য বাসযোগ্যতার সূচক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পাঠকরা যদি এই ধরনের গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে আরও জানতে চান, তবে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রকাশিত ডেটা ও সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক জার্নালের প্রতিবেদন অনুসরণ করা উপকারী হবে। আপনার মতামত কী? উষ্ণ গ্রহেও বায়ুমণ্ডল থাকতে পারে বলে আপনার ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে কি?



