প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পূর্বে অর্ধ ডজনের বেশি উচ্চপদস্থ সচিব অবসর নিতে যাচ্ছেন, সরকার এই পদগুলোর জন্য নতুন কর্মকর্তাকে নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অবসরপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করে, তাদের ক্যারিয়ার রেকর্ড ও পটভূমি বিশ্লেষণ করে নতুন প্রার্থীদের নির্বাচন শুরু করেছে।
মহামারী ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আগামী ৩১ ডিসেম্বর পোস্ট‑রিটায়ারমেন্ট লিভ (PRL) নেবেন। তার অবসর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি গতকাল পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (OSD) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
জানুয়ারি মাসে অন্তত তিনজন সচিবের অবসর নির্ধারিত হয়েছে। গত রবিবার পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রণালয় গেজেটের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোকাব্বির হোসেনের অবসর ১ জানুয়ারি কার্যকর হবে। একই সময়ে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক ২ জানুয়ারি এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ ওমর ফারুক ৩ জানুয়ারি পদত্যাগ করবেন।
ফেব্রুয়ারি ২ তারিখে বাংলাদেশ এমপ্লয়ি ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ডিরেক্টর জেনারেল তাসলিমা কানিজ নাহিদা এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ডঃ মোস্তাফিজুর রহমানের অবসর হবে। এই পদত্যাগগুলো নির্বাচনের আগে সরকারী কাঠামোর পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুজন বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য লবিং করছেন, তবে তাদের সফলতার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা। একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে সচিব, যিনি ইতিমধ্যে চুক্তিভিত্তিক পদে আছেন, তার মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্যাবিনেট বিভাগ ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী নতুন সচিবদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে অগ্রসর। নির্বাচনের আগে শূন্যপদগুলো পূরণ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো বাধা না আসে।
এই পরিবর্তনগুলো নির্বাচনী পরিবেশে সরকারের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তবে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গেজেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।
সারসংক্ষেপে, নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে একাধিক উচ্চপদস্থ সচিবের অবসর এবং নতুন কর্মকর্তার নিয়োগের প্রস্তুতি সরকারী প্রশাসনের পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



