28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানব্লু অরিজিন মহিলাদের মহাকাশ ভ্রমণের পর ভিয়েতনামি-আমেরিকান মহাকাশচারীর মানসিক অবস্থা

ব্লু অরিজিন মহিলাদের মহাকাশ ভ্রমণের পর ভিয়েতনামি-আমেরিকান মহাকাশচারীর মানসিক অবস্থা

৩৪ বছর বয়সী ভিয়েতনামি-আমেরিকান বিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মী আমান্ডা ন্গুয়েন, বিশ্বে প্রথম সম্পূর্ণ নারী মহাকাশ ভ্রমণের অংশ হিসেবে ব্লু অরিজিনের ১১ মিনিটের উড়ানে অংশ নেন। এই উড়ানে পপ গায়িকা ক্যাটি পেরি এবং জেফ বেজোসের স্ত্রী লরেন স্যাঞ্চেজও ছিলেন। উড়ানটি উচ্চ ব্যয় এবং পরিবেশগত প্রভাবের জন্য সমালোচনার মুখে পড়ে, তবে ন্গুয়েনের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ তিনি প্রথম ভিয়েতনামি নারী হিসেবে মহাকাশে পৌঁছেছেন এবং উড়ানটি যুক্তরাষ্ট্র-ভিয়েতনাম যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়।

উড়ানের পর ন্গুয়েন সামাজিক মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও অপমানের মুখে পড়েন। তিনি জানিয়েছেন যে, উড়ানের পরের দিনগুলোতে তিনি গভীর হতাশার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং তার মানসিক অবস্থা বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে বলে তিনি অনুমান করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একই সময়ে টেক্সাসে তিনি এক সপ্তাহের বেশি শোয়াতে অক্ষম ছিলেন এবং পরবর্তীতে ব্লু অরিজিনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফোন করলে তিনি কান্নার মধ্যে কথা বলতে না পারার কারণে কলটি শেষ করে দেন।

ন্গুয়েনের মতে, এই সমালোচনা ও অপমানের তরঙ্গ তার বিজ্ঞানী হিসেবে অর্জিত সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। তিনি মহাকাশে নারী স্বাস্থ্যের উপর গবেষণা চালিয়েছিলেন, বহু পরীক্ষা পরিচালনা করেছিলেন এবং তার ক্যারিয়ার, গবেষণা ও ব্যক্তিগত ইতিহাস—যার মধ্যে তিনি নৌকা শরণার্থী পরিবারের সন্তান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার ছিলেন—সবই এই ‘মিসোজিনি’ তরঙ্গের নিচে গলে গেছে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ন্গুয়েনের মহাকাশে করা গবেষণা নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে। তিনি মহাকাশে শূন্যমাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে হরমোনের পরিবর্তন, হাড়ের ঘনত্ব এবং রক্তচাপের ওপর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন। এই ফলাফলগুলো ভবিষ্যতে মহাকাশ ভ্রমণকারী নারীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

ন্গুয়েনের ব্যক্তিগত গল্পও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন, যা তার স্বপ্নকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দেয়। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদী ন্যায়বিচার সংগ্রামের মাধ্যমে নিজের এবং অন্য নারীদের জন্য সুরক্ষা ও সমর্থনের পথ তৈরি করেন। তার এই অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার কর্ম তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক মহাকাশ ভ্রমণ তাকে নতুন ধরনের মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ব্লু অরিজিনের উড়ানটি যদিও প্রযুক্তিগতভাবে সফল, তবু এর সামাজিক প্রতিক্রিয়া মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে গভীর আলোচনা উত্থাপন করেছে। ন্গুয়েনের অভিজ্ঞতা দেখায় যে, মহাকাশে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রগতি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মানবিক দিক থেকে সমর্থন ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভবিষ্যতে মহাকাশ সংস্থা এবং সমাজের উচিত মহাকাশে অংশগ্রহণকারী নারীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আপনার মতামত কী? মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে কি আমাদের সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন দরকার, নাকি প্রযুক্তিগত ও নীতিগত পদক্ষেপই যথেষ্ট?

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments