নরায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা, দত্তপাড়া ও পৌর ভবনাথপুর এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, জোবি‑মেঘনাঘাট কর্তৃপক্ষ এই অভিযান চালায়।
অভিযানটি জেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুনিম সোহানার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। মোট তিনটি স্থানে কাজ করা হয় এবং প্রতিটি স্থানে অবৈধ গ্যাস সংযোগের সরঞ্জামগুলো ধ্বংস করা হয়।
দত্তপাড়া এলাকায় অবৈধ চুনা কারখানার দুইটি ভাট্টি পাওয়া যায়, যার মধ্যে একটি সক্রিয় অবস্থায় ছিল। সংশ্লিষ্ট ভাট্টিগুলোকে এক্সক্যাভেটর মেশিনের সাহায্যে উচ্ছেদ করা হয় এবং গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
পৌর ভবনাথপুর এলাকায় আরেকটি অবৈধ চুনা কারখানা সনাক্ত করা হয়। এখানে দুইটি ভাট্টি ছিল, যার মধ্যে একটি চালু ছিল। একই পদ্ধতিতে ভাট্টিগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়।
কলাপাতা এলাকায় অবৈধ মিষ্টি কারখানার চারটি বার্নার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই কারখানায় গ্যাসের ব্যবহার অবৈধভাবে চালু ছিল, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছিল।
অভিযানের সময় প্রায় ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের ৫০ ফুট লম্বা লোহার পাইপ, চারটি এয়ার‑মিক্স বার্নার এবং প্রায় ২৫০ ফুট প্লাস্টিকের পাইপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত প্লাস্টিকের পাইপ现场েই কেটে ধ্বংস করা হয়।
মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোট চারটি বাণিজ্যিক চুনা ভাট্টি ও একটি মিষ্টি কারখানার চারটি বার্নারের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। মোট ৮,১৮০ ঘনফুট প্রতি ঘণ্টা গ্যাস লোড বন্ধ হওয়ায় দৈনিক প্রায় ১,৬৮,০০০ টাকার গ্যাস সাশ্রয় হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
কলাপাতা এলাকার মিষ্টি কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগের জন্য ২০,০০০ টাকার জরিমানা আদায় করা হয়। তবে, কারখানার মালিকদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় কোনো কারাদণ্ড আরোপ করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মতে, এক্সক্যাভেটর মেশিনের সাহায্যে কারখানার কাঠামো ভেঙে ফেলা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ধ্বংসকৃত সরঞ্জাম ও পাইপের অবশিষ্টাংশ নিরাপদে নিষ্পত্তি করা হয়।
অভিযানের পর, আইন বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা নোটিশ জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে জোবি‑মেঘনাঘাটের কর্মকর্তা, পুলিশ, রেঞ্জার এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা একসাথে কাজ করে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে কাজ করেছে।



