২০২৬ সালের শুরুতে ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। গত বছর অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও ভোক্তা আচরণে দেখা গতি বিবেচনা করে, আর্থিক স্থিতিশীলতা এখন নতুন বছরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
২০২৫ সালে গৃহীত অভিজ্ঞতা ও শিখনকে ভিত্তি করে, অনেকেই আর্থিক দিক থেকে কীভাবে উন্নতি করা যায় তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করছেন। এই পুনর্মূল্যায়ন স্বাভাবিকভাবেই নতুন বছরের প্রতিশ্রুতিতে রূপ নেয়, যেখানে অধিক আয় নয়, বরং ব্যয়কে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচালনা করা মূল চাবিকাঠি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আধুনিক জীবনের রঙিন দিকগুলো—ক্যাফে হপিং, হঠাৎ কেনাকাটা, নতুন শখের অনুসরণ এবং এক ক্লিকের চেকআউট—সবই আর্থিক শৃঙ্খলা হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে, ২০২৬ সালে আর্থিক স্বনিয়ন্ত্রণকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
বাজেটিংকে আর্থিক শৃঙ্খলার ভিত্তি হিসেবে গৃহীত করা উচিত। মাসিক আয়কে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাগ করে নিলে, অপ্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। লক্ষ্যভিত্তিক বাজেট তৈরি করলে জীবনের বিভিন্ন দিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
খরচের বিভাগগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। খাবার, পরিবহন, ইউটিলিটি এবং শখের জন্য আলাদা ক্যাটেগরি তৈরি করলে, প্রত্যেকটি খাতে কতটুকু ব্যয় হচ্ছে তা সহজে ট্র্যাক করা যায়।
খাবারের ক্ষেত্রে, ঘরে রান্না করা খাবারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ করা, ডেলিভারি সেবার ব্যবহার সীমিত রাখা এবং সপ্তাহান্তে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বাইরে খাওয়ার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। এই পদ্ধতি অতিরিক্ত ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
শখের ক্ষেত্রে বাজেটিং প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, তবে এটি আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প সামগ্রী, বই, জার্নালিং বা কর্মশালার জন্য নির্ধারিত তহবিল থাকলে অতিরিক্ত ব্যয়ের দায়িত্ব কমে যায় এবং সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা বজায় থাকে।
বাজেটের কার্যকারিতা বাড়াতে, দৈনিক ও মাসিক ব্যয় পর্যবেক্ষণের জন্য নির্ভরযোগ্য অ্যাপ ব্যবহার করা উচিৎ। টাকাট্র্যাকার, মানি ম্যানেজার এবং ডেইলি এক্সপেন্স ম্যানেজার মতো অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর ব্যয় প্যাটার্ন চিহ্নিত করে এবং সঠিক সময়ে সতর্ক করে।
দ্রষ্টব্য, লক্ষ্য হল ব্যয়কে তীব্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা, না যে তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগে ডুবে যাওয়া। সচেতনতা বজায় রাখলে আর্থিক সিদ্ধান্তে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমে।
সঞ্চয়ের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট তৈরি করা অপরিহার্য। এই অ্যাকাউন্টকে শুধুমাত্র সঞ্চয়ের জন্য ব্যবহার করা এবং মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা করা উচিত। ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) এমন একটি নিরাপদ উপায়, যা দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
ব্যক্তিগত আর্থিক শৃঙ্খলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও উপকৃত হয়। সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, ব্যাংকের লিকুইডিটি শক্তিশালী হয় এবং ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে, ফিনটেক সেক্টরের অ্যাপ ব্যবহার বাড়লে ডিজিটাল পেমেন্ট ও ডেটা বিশ্লেষণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
ভবিষ্যতে, বাজেটিং অ্যাপের ব্যবহার আরও ব্যাপক হবে বলে আশা করা যায়। তবে ডিজিটাল পেমেন্টের সহজলভ্যতা অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাই আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানো জরুরি।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালে আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি, খরচের বিভাগভিত্তিক পরিকল্পনা, ডেটা-চালিত ট্র্যাকিং এবং সঞ্চয়ের জন্য নিবেদিত অ্যাকাউন্টের ব্যবহার অপরিহার্য। এই পদ্ধতিগুলো ব্যক্তিগত আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাবে এবং সমগ্র অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



