চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা-এ ২৪ নভেম্বর ভোরে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা গ্রাম মিজি বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, বাড়ির গৃহবধূ রহিম বাদশার স্ত্রী পেয়ারা বেগম পরে সাতজন অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মো. খোকন, ৩২ বছর বয়সী গুপ্টি সরদার বাড়ির সন্তান ও শ্রমিক, ১৫ ডিসেম্বর রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থানা-এ গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ফরিদগঞ্জ থানায় চারটি পৃথক অপরাধের মামলা দায়ের রয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর, ফরিদগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তিনজন অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজন হাজির হন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে, খোকন তার দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং হেফাজতে পুলিশ নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
কবিরের রেকর্ডে উল্লেখ আছে যে, গ্রেপ্তারের সময় খোকনকে সুস্থ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং হেফাজতে কোনো শারীরিক আঘাতের উল্লেখ না থাকলেও, খোকন নিজে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে, ২৮ নভেম্বরের একই মামলায় ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ নির্যাতনের ওপর মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশ অনুসরণ করে, ২৭ ডিসেম্বর ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের অধীনে মামলাটি গ্রহণ করেন। তদন্তের দায়িত্ব উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ ইফতেখারকে অর্পণ করা হয়।
একই দিনে, খোকন নিজে ফরিদগঞ্জ থানায় চারজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা বর্তমানে থানা-এ কর্মরত এবং তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মামলার পরবর্তী পর্যায়ে, ৩০ ডিসেম্বর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ স্বপন মামলার তথ্য নিশ্চিত করেন এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেন।
এই ধারাবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে, খোকনের পূর্বে ২৪ নভেম্বরের ডাকাতি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য অভিযোগও উন্মোচিত হয়েছে। মিজি বাড়ির গৃহবধূ পেয়ারা বেগমের দায়ের পর, সাতজন অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি, খোকনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চারটি অপরাধের মামলা রয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানা-এ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলাটি এখনও চলমান এবং তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খোকন ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলি আদালতে শোনার অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত চলমান এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশিত হবে।



