ব্রিগিট বর্ডো, ৯১ বছর বয়সে রবিবার মৃত্যুবরণ করেন; তার মৃত্যু পরই ডানপন্থী রাজনীতিবিদ ইরিক সিয়োটি ফ্রান্সকে জাতীয় স্তরে সম্মান জানাতে আহ্বান জানান। তিনি বর্ডোকে দেশের মারিয়ানের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে, তার অবদানের জন্য একটি সরকারি সমাহার প্রস্তাব করেন।
সিয়োটি এই আহ্বানকে সমর্থনকারী একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেন, যা এখন পর্যন্ত ২৩,০০০ের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে এবং উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থন পেয়েছে। পিটিশনটি বর্ডোর আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও নারী স্বাধীনতা ও গর্ভপাতের অধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা তুলে ধরতে চায়।
বামপন্থী নেতা অলিভিয়ের ফৌর এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে জাতীয় সম্মাননা শুধুমাত্র এমন ব্যক্তিদের জন্য যা জাতিকে অস্বাভাবিক সেবা প্রদান করেছে। ফৌর বর্ডোর চলচ্চিত্রিক সাফল্য স্বীকার করলেও, তার রেপাবলিকান মূল্যবোধের প্রতি অবহেলা ও উগ্র মন্তব্যকে সমালোচনা করেন।
ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রন পূর্বে বর্ডোকে “শতাব্দীর কিংবদন্তি” বলে প্রশংসা করেছেন এবং তাকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সিয়োটি এই প্রশংসাকে ভিত্তি করে রাষ্ট্রপতির কাছে একটি সরকারি সমাহার আয়োজনের অনুরোধ করেন।
সিয়োটি যুক্তি দেন যে বর্ডো ফ্রান্সকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল করেছে এবং নারী অধিকার ও গর্ভপাতের স্বাধীনতার জন্য সক্রিয়ভাবে লড়াই করেছে। তিনি বলেন, এমন একজন নারীকে সম্মান করা উচিত যিনি দেশের গৌরব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
নিসের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান এসট্রোসি বর্ডোর স্মৃতিতে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার নামে একটি স্মারক স্থাপন করার ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগটি বর্ডোর ফরাসি রিভিয়েরার সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী সংযোগকে তুলে ধরবে।
বর্ডোর উত্তরাধিকার বিতর্কিত রয়ে গেছে। ফৌর উল্লেখ করেন যে বর্ডো পাঁচবার বর্ণবাদী উস্কানির জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যা তার রেপাবলিকান মূল্যবোধের প্রতি অবহেলার প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়। তার রাজনৈতিক মন্তব্যগুলোকে প্রায়ই উগ্র ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
চলচ্চিত্র জগতে বর্ডোর ক্যারিয়ার প্রায় পঞ্চাশটি ছবিতে বিস্তৃত। ১৯৫৬ সালে “অ্যান্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান” ছবিতে তার উজ্জ্বল পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে দেয়। এই ভূমিকা তাকে ফরাসি সিনেমার আইকন করে তুলেছিল।
বর্ডো ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্র থেকে সরে গিয়ে প্রাণী কল্যাণের কাজে নিজেকে নিবেদিত করেন। তিনি প্রাণী অধিকার সংস্থার প্রতিষ্ঠা ও সমর্থনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, যা তার পরবর্তী জীবনের মূল দিক হয়ে ওঠে।
বর্ডো বহু বছর সাঁ ত্রোপেজের লা মাদ্রাগে নামের বাড়িতে বসবাস করেন। এই সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি তার ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের উভয় দিকের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ আশ্রয়স্থল ছিল।
তবে তার রাজনৈতিক অবস্থানও সমানভাবে নজরে আসে। বর্ডো মুসলিম সম্প্রদায় ও ফরাসি ইন্ডিয়ান ওশান দ্বীপ রিইউনিয়নের মানুষদের লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তার এই মন্তব্যগুলোকে সমালোচকরা মানবিক সহানুভূতির অভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখেন।
বর্ডোর সমর্থকরা তাকে নারীর স্বাধীনতা ও প্রাণী অধিকার রক্ষায় একজন অগ্রগামী হিসেবে প্রশংসা করেন, আর সমালোচকরা তার উগ্র রেটোরিক ও বর্ণবাদী উস্কানিকে নিন্দা করেন। তার মৃত্যু পরও এই দ্বিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত থাকবে, যা ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।



