ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মঙ্গলবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে একটি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন, যাকে তার আইনজীবী এএফএম রেজাউল করিম (হিরন) বয়স্ক ও অসুস্থ বলে উল্লেখ করেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থার বিরোধিতা করে বলেন, তিনি সুস্থ ও সবল।
শাহবাগ থানার নির্ধারিত শোনানির সময় দুপুর ১১টায় আদালতে কার্যক্রম শুরু হয়। লতিফ সিদ্দিকীর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান এবং আরও কয়েকজন জামিনে থাকা আসামি উপস্থিত ছিলেন। লতিফ সিদ্দিকী ১৬ নভেম্বর তার আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দিতে আবেদন করলেও মূল নথি না থাকায় সেই দিন শুনানি হয়নি।
মঙ্গলবারের শোনানিতে অন্যান্য আসামিরাও তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। বিচারক এজলাসে উঠার পর লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শোনানিতে অংশ নেন। রেজাউল করিম আদালতে জানিয়ে বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বয়স ৮৭ বছর এবং তিনি বয়সজনিত কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল। তিনি আদালতে উপস্থিতি না হওয়ার আবেদন করলেও নথি অনুপস্থিতির কারণে শুনানি স্থগিত হয়।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা লতিফ সিদ্দিকী তৎক্ষণাৎ বিরোধিতা করে বলেন, “আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ না, এটা বলবেন না। আমি সুস্থ, সবল—এ বয়সেও।” এরপর তিনি আদালতকে অনুরোধ করেন, “যদি দেশের নাগরিক হিসেবে আমার বয়স ও অবদান বিবেচনা করে সংযত মনে করেন, তবে অভিযোগ গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিন।”
অন্যান্য আসামিদের আইনজীবীরাও তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং শোনানির পর আদালত আদেশের অপেক্ষায় থাকে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানিয়েছেন যে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে আদালতের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে (ডিআরইউ) মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ক এক আলোচনা সভায় লতিফ সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না ‘মব’ হামলার শিকার হন। ঘটনায় পুলিশ ১৬ জনকে হেফাজতে নেয়। পরের দিন শাহবাগ থানায় তাদের নামে উল্টো মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ‘দেশকে অস্থিতিশীল এবং অন্তবর্তীকালীন সরকার’ ইত্যাদি অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
এই মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা এখনো পরিষ্কার নয়। আদালত যদি লতিফ সিদ্দিকীর স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে বিশেষ ছাড় দেয়, তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে তার উপস্থিতি ও দায়িত্বের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, প্রোসিকিউশন যদি মামলাটি চালিয়ে যায়, তবে লতিফ সিদ্দিকীর বয়স ও স্বাস্থ্যের প্রশ্ন আদালতে পুনরায় উত্থাপিত হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের মামলায় আদালতের রায় ভবিষ্যতে সমজাতীয় উচ্চবয়সী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, লতিফ সিদ্দিকীর বয়স, স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে তার দায়িত্বের মধ্যে চলমান এই বিতর্ক, দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে আদালতের চূড়ান্ত রায় কী হবে, তা দেশের আইনগত নীতি ও রাজনৈতিক সমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



