লিডস ইউনাইটেড রবিবার সন্ধ্যায় সানডারল্যান্ডে সমতা গোল করে, যা তাদের পাঁচ ম্যাচের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শৃঙ্খলায় নতুন একটি জয় যোগ করেছে। গলটি সম্পূর্ণ দলগত প্রচেষ্টার ফল, নীল জার্সি পরা প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্পর্শ গলটির গঠনকে সম্পূর্ণ করেছে।
গলটির নির্মাণে লিডসের মিডফিল্ডার, ডিফেন্ডার এবং ফরোয়ার্ড সবাই ধারাবাহিকভাবে পাস ও চলাচল করেছে, শেষ পর্যন্ত বলটি ফরোয়ার্ড লাইনে পৌঁছে সমতা নিশ্চিত করেছে। এই ধরণের সম্পূর্ণ দলগত গল প্রিমিয়ার লীগে বিরল, এই মৌসুমে মাত্র দুবারই দেখা গেছে, মোট ৫০৩টি গল থেকে।
লিডসের এই গলটি লিগের ইতিহাসে লুকাস পেরি এবং ডমিনিক ক্যালভার্ট‑লুইনের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করা হয়, কারণ উভয়ই দলগত গল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। লিডসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শৃঙ্খলা এখন পাঁচ ম্যাচে পৌঁছেছে, যা তাদের মৌসুমের শীর্ষে রাখে।
প্রিমিয়ার লীগে আরেকটি স্মরণীয় দলগত গল ঘটেছে, যেখানে এক গলকে গঠন করতে ১১টি স্বতন্ত্র স্পর্শ যুক্ত ছিল। এই গলটি ১৬‑বছর বয়সী একজন নবীন খেলোয়াড়ের ডেবিউতে শেষ হয়, যাকে লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গল করার অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
সেই ম্যাচে টেন‑ম্যান নিউক্যাসল ৮৮তম মিনিটে সমতা গল করে, তবে অতিরিক্ত সময়ে লিভারপুলের অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা গলটি তৈরি করতে সক্ষম হয়। লিভারপুলের খেলোয়াড়রা শান্তভাবে বলকে ঘুরিয়ে নিউক্যাসল রক্ষার মধ্যে ফাঁক তৈরি করে।
গলটির মূল মুহূর্তে ডমিনিক সজোবস্লাই একটি ডামি চালিয়ে মোহাম্মদ সালাহের ক্রসকে বাধা দেয়, ফলে ন্গুমোহা ব্যাক পোস্টে মুক্তি পায় এবং নিক পোপের দিক দিয়ে বলকে ঘুরিয়ে গল করে। এই গলটি পুরো দলগত সমন্বয়ের উদাহরণ, যেখানে প্রতিটি পাস ও চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ভিরজিল ভ্যান ডিক গলটি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “এটি তার স্বপ্নের ডেবিউ, প্রযুক্তি নিখুঁত ছিল। শেষের দিকে আমরা শান্ত থেকেছি, সঠিক সমাধান খুঁজে গলটি করেছি।” তার এই মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের ওপর আলোকপাত করে।
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গুআরদিয়োয়ালার অধীনে একই ধরণের জটিল দলগত গল দেখা গেছে। তার প্রথম মৌসুমে তিনি দলকে এমনভাবে গঠন করতে চেয়েছিলেন যাতে প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্পর্শ গল তৈরিতে অবদান রাখে।
একটি স্মরণীয় গলটি থ্রো‑ইন থেকে শুরু হয়, যেখানে সিটি ধৈর্য সহকারে বলকে পেছনের দিকে ঘুরিয়ে রাখে। মোট ২০টি স্পর্শের পর রাহিম স্টার্লিং দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সের্জিও আগুয়েরোর জন্য ক্রস দেন, যার ফলে গলটি সম্পন্ন হয়। এই গলটি গুআরদিয়োয়ালার ট্যাকটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট উদাহরণ।
লিডসের পরবর্তী ম্যাচে তারা হোম গ্রাউন্ডে আরেকটি শক্তিশালী দলকে মুখোমুখি হবে, যেখানে দলগত গল তৈরির ধারাকে বজায় রাখার চেষ্টা করবে। লিভারপুলের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীও একইভাবে দলগত সমন্বয়কে গুরুত্ব দেবে, আর সিটি তাদের পরবর্তী লিগ ম্যাচে গুআরদিয়োয়ালার পরিকল্পনা অনুযায়ী গল তৈরির চেষ্টা করবে।
প্রিমিয়ার লীগে দলগত গল তৈরির এই প্রবণতা ফুটবলের সৌন্দর্যকে নতুন মাত্রা দেয়, যেখানে একক স্টার না হয়ে পুরো দলের সমন্বয়ই বিজয়ের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।



