ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী গাজা উপত্যকায় নতুন বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে। এই হামলা গাজা শহর, রাফাহের উত্তরে, খান ইউনিসের পূর্বে, কেন্দ্রীয় গাজার মাঘাজি শিবির এবং উপত্যকার উত্তরে বেইত লাহিয়া এলাকায় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গাজা শহরের শুজায়া পাড়া বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে, যেখানে শিবিরে থাকা এক পরিবারকে লক্ষ্য করে বোমা ফেলা হয়েছে। একই সময়ে গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে আর্টিলারি গুলিবর্ষণ ঘটেছে, যা শিবিরের কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের সঙ্গে মিলিয়ে শরণার্থীদের সাময়িক আশ্রয়কে ধ্বংস করেছে।
গাজা সরকারী মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী মোট ৯৬৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এই লঙ্ঘনের ফলে ৪১৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং ১১০০-এরও বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছে। এই সংখ্যা গাজা অঞ্চলের মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
শীতের ভারী বৃষ্টিপাত এবং তীব্র বাতাসের ফলে শিবিরে গড়ে তোলা সাময়িক তাঁবু ও কাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বহু শরণার্থী পরিবার তাদের সামান্যই অবশিষ্ট সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে; টেন্টের ছাদ ফাটে গিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করে, ফলে ঘরোয়া সামগ্রী ও খাবার নষ্ট হয়ে যায়। শিবিরের অবস্থা এমন যে, তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে শীতল বাতাসে শিবিরের বাসিন্দারা শ্বাসরুদ্ধের মতো কষ্টে ভুগছে।
মানবিক সংস্থাগুলি বারবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে শিবিরে আশ্রয় সামগ্রী, বিশেষত টেন্ট, তলানী ও জলরোধী কভার সরবরাহের বাধা তুলে দিতে আহ্বান জানাচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান সীমাবদ্ধতা শরণার্থীদের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলেছে এবং বন্যা-প্রবণ শিবিরে জীবনযাত্রা আরও বিপন্ন করে তুলেছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। শিবিরে পরিষ্কার পানির অভাব এবং স্যানিটেশন সুবিধার ঘাটতি রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। তদুপরি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিক বিচ্ছিন্নতা শিবিরে মৌলিক জীবনযাত্রার মানকে হ্রাস করছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েলি হামলার ধারাবাহিকতা এবং মানবিক সহায়তার সীমাবদ্ধতাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, গাজা অঞ্চলে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য নিরাপদ করিডোর স্থাপন করা জরুরি, যাতে শরণার্থীরা মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়।
ইসরায়েলি পক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত অস্ত্রবিরতি চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। গাজা শিবিরে অবস্থা তীব্র হওয়ায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে যাতে ইসরায়েলি সরকার শিবিরে মানবিক সামগ্রী প্রবেশের বাধা সরিয়ে দেয়।
সামগ্রিকভাবে, গাজা উপত্যকায় চলমান বোমা হামলা, অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন এবং শীতের বন্যা শরণার্থীদের জীবনকে একাধিক দিক থেকে বিপন্ন করে তুলেছে। মানবিক সংস্থার আহ্বান সত্ত্বেও সীমাবদ্ধতা বজায় থাকায়, শিবিরে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষ তীব্র কষ্টের মধ্যে রয়েছে এবং তাত্ক্ষণিক আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।



