22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইয়েমেন ইউএই সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব আমিরাতি বাহিনী...

ইয়েমেন ইউএই সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহার দাবি

দক্ষিণ ইয়েমেনে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)‑এর কাছে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগের পর, ইয়েমেন সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় এবং দেশের সব অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমিরাতি সৈন্যবাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। একই সময়ে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (PLC) ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং সব বন্দর ও সীমান্ত পারাপারে ৭২ ঘণ্টার জন্য আকাশ ও স্থলপথে চলাচল নিষিদ্ধ করে।

টেলিভিশনে প্রকাশিত এক ভাষণে PLC‑এর চেয়ারম্যান রাশাদ আল‑আলিমি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আগামী এক দিন মধ্যে সব আমিরাতি সেনা ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, জরুরি অবস্থা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অত্যন্ত জরুরি ঘোষণা অনুযায়ী, সরকার সকল বন্দর, বিমানবন্দর এবং সীমান্ত ক্রসিংয়ে কঠোর নজরদারি আরোপ করবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী চলাচল সীমিত থাকবে, আর কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্রের গমনাগমন নিষিদ্ধ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলোকে নিরাপত্তা জটিলতা হ্রাসের মূল কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পূর্বে একই দিনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী মুকাল্লা বন্দরে অবস্থিত দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল‑মালিকি জানিয়েছেন, এই জাহাজগুলো ফুজাইরা বন্দর থেকে বেরিয়ে ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর মুকাল্লা বন্দরে প্রবেশ করে, যদিও জোটের যৌথ কমান্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছিল না।

যুদ্ধের এই পর্যায়ে, জোটের বিবৃতি অনুযায়ী, উক্ত জাহাজগুলো কোনো সামরিক অনুমোদন ছাড়াই দক্ষিণ ইয়েমেনে প্রবেশ করেছিল। এই ঘটনাটি জোটের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নির্দেশ করে এবং অঞ্চলের সামরিক গতিবিধিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

ইয়েমেন সরকার জোটের এই আক্রমণকে STC‑এর অস্ত্র সরবরাহের সরাসরি সূত্র হিসেবে উপস্থাপন করে। সরকার দাবি করে, উক্ত জাহাজের মাধ্যমে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের হাতে অস্ত্র পৌঁছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, সরকার ইউএই‑এর সঙ্গে পূর্বে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি, সরকার সব আমিরাতি সৈন্যবাহিনীর তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহার দাবি করে, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

যদিও ইউএই‑এর পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে দু’দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা তীব্রভাবে পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে, ইউএই‑এর পূর্বে ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন প্রকল্পে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল, যা এখন নতুনভাবে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের এই সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং ইউএই‑এর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পরিণতি, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের গতিপথে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে, সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হলে, তার সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, যা সরকারী বাহিনীর জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে।

অন্যদিকে, জোটের আক্রমণ এবং ইউএই‑এর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ফলে জোটের মধ্যে সমন্বয় ও বিশ্বাসের ঘাটতি প্রকাশ পায়। ভবিষ্যতে, জোটের সদস্য দেশগুলোকে এই ধরনের ঘটনাগুলোর জন্য আরও স্পষ্ট প্রোটোকল তৈরি করতে হতে পারে, যাতে অননুমোদিত সামরিক সরবরাহের ঝুঁকি কমে।

ইয়েমেনের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতিমধ্যে জটিল, এবং এই নতুন পদক্ষেপগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক সমঝোতার নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। সরকার জরুরি অবস্থা চালু করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায়, তবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

পরবর্তী সময়ে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শক্তিগুলোকে এই উন্নয়নগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments