বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারপার্সন তরিক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে, আজ ফেসবুকে পোস্টে তার মাতা ও রাজনৈতিক পথিকৃৎ হিসেবে গুণাবলি তুলে ধরেছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া দেশের সেবা ও পরিবারের প্রতি নিবেদিত জীবনযাপন করেছেন, যা তার সন্তানদের জন্য অমলিন শক্তি সরবরাহ করেছে।
তরিকের মতে, জনসমক্ষে তার মায়ের রাজনৈতিক কর্মজীবন ত্যাগ, সংগ্রাম ও কষ্টে ভরপুর ছিল, তবে গৃহে তিনি পরিবারের সর্বোচ্চ রক্ষাকর্তা ছিলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অশেষ স্নেহই তাদের অন্ধকার সময়ে দৃঢ়তা জোগিয়েছে।
বিএনপি নেতার মন্তব্যে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বহুবার গ্রেফতার, চিকিৎসা সেবার অস্বীকৃতি এবং অবিরাম হিংসার শিকার হয়েছেন। তবু, সব কষ্টের মাঝেও তিনি পরিবারকে রক্ষা করতে দৃঢ়তা ও সহানুভূতি বজায় রেখেছেন।
তরিকের বর্ণনা অনুযায়ী, তার মায়ের স্থিতিস্থাপকতা চরম চ্যালেঞ্জের মুখেও অদম্য রইল। তিনি বলেন, তার দৃঢ়তা শব্দে প্রকাশ পায় না, তবে তা অটুট। এই গুণই তাকে রাজনৈতিক মঞ্চে এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার জাতীয় মর্যাদা সম্পর্কে তরিকের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকের কাছে তিনি অটল নেতা ও দেশের গণতান্ত্রিক স্বপ্নের পথপ্রদর্শক ছিলেন। তার রাজনৈতিক অবদানের ফলে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তরিকের পোস্টে তিনি আরও বলেন, দেশের জন্য তিনি স্বামী ও সন্তান দুজনই হারিয়েছেন। স্বামী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান, আর সন্তান ছিলেন তার ছোট ভাই। এই ব্যক্তিগত ক্ষতি সত্ত্বেও তিনি জাতিকে নিজের পরিবার হিসেবে গ্রহণ করে সেবায় অগ্রসর হয়েছেন।
বিএনপি নেতার শেষ অনুরোধে তিনি জনগণকে তার মায়ের জন্য প্রার্থনা করতে আহ্বান জানান এবং দেশীয়-বিদেশী সকল সহানুভূতিশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সমবেদনা জানানো ব্যক্তিরা তার পরিবারের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, শাসনকারী আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থকরা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তারা উল্লেখ করেন, তার নেতৃত্বে কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তে দেশীয় বিভাজন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজনৈতিক বিরোধিতা তীব্র হয়েছে। তবে তরিকের পোস্টে এই সমালোচনাগুলোকে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি যদি না থাকেন, তবে বিএনপি-র নেতৃত্বে নতুন গতি ও কৌশল গড়ে তুলতে হবে। তরিকের প্রকাশিত অনুভূতি অনুসারে, মায়ের স্মৃতি ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে, তবে একই সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরে ক্ষমতার পুনর্বণ্টনও ঘটতে পারে।
ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোতে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি কীভাবে ভোটের প্রবণতাকে প্রভাবিত করবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে তরিকের মন্তব্যে স্পষ্ট যে, তার মায়ের আদর্শ ও ত্যাগের স্মৃতি পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কার্যক্রমের বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী বুধবার, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে, তার দেহাবশেষের শেষ দাফন করা হবে। সমাধিস্থলটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে অবস্থিত, যা তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক সংযোগকে প্রতিফলিত করে।
বিএনপি তরিকের এই প্রকাশনা পার্টির ভক্তদের মধ্যে শোক ও সম্মানের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে খালেদা জিয়ার অবদানকে পুনরায় মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তার স্মৃতি ও আদর্শের প্রভাব কীভাবে অব্যাহত থাকবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



