22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকসৌদি জোটের সীমিত বিমান হামলা, মুকাল্লা বন্দরে ইউএই শিপের অস্ত্র লক্ষ্য

সৌদি জোটের সীমিত বিমান হামলা, মুকাল্লা বন্দরে ইউএই শিপের অস্ত্র লক্ষ্য

সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত জোটের বিমানবাহিনী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে যুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাঠানো দুটি জাহাজে লোড করা অস্ত্র ও যুদ্ধযানকে লক্ষ্য করে সীমিত আকাশীয় আক্রমণ চালায়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল‑মালিকি জানান, এই শিপগুলো ২৭‑২৮ ডিসেম্বর ফুজাইরা বন্দর থেকে রওনা হয়ে অনুমোদন ছাড়াই মুকাল্লা বন্দরে প্রবেশ করেছিল।

আল‑মালিকি উল্লেখ করেন, শিপগুলো হাদ্রামাউত ও মাহরা প্রদেশের দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) বাহিনীর সমর্থনে বিশাল পরিমাণে অস্ত্র ও গাড়ি বহন করছিল। জোটের মতে, এই সরবরাহগুলো সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল।

বিমান হামলায় জোটের বিমান দুটি শিপের ডেক থেকে নামানো অস্ত্র ও যুদ্ধযানকে লক্ষ্যবস্তু করে, ফলে কোনো সমান্তরাল ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে কাজ করা হয়েছে। আল‑মালিকি জোর দিয়ে বলেন, আক্রমণটি সীমিত এবং কেবল অবৈধ সরবরাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সি জানায়, জোটের মুখপাত্র পূর্বাঞ্চলীয় হাদ্রামাউত ও আল‑মাহরায় উত্তেজনা কমাতে এবং বৈধ ইয়েমেনি সরকার ও জোটের সমন্বয় ছাড়া কোনো গোষ্ঠীর কাছে সামরিক সরবরাহ রোধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এই ঘটনার ওপর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পটভূমিতে, গত মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল হাদ্রামাউত ও আল‑মাহরার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়ছে। STC ধারাবাহিকভাবে দাবি করে যে কেন্দ্রীয় সরকার দক্ষিণাঞ্চলকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে তুলেছে এবং উত্তর থেকে তাদের অঞ্চল বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইয়েমেনি সরকার এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে, দেশের আঞ্চলিক ঐক্য রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যুক্ত আরব আমিরাতের শিপে সরবরাহিত অস্ত্রের উপস্থিতি জোটের জন্য কূটনৈতিক সংকটের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জোটের এই সীমিত আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা মেনে নেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, যদিও এটি অঞ্চলের সামরিক গতিবিধি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাশিদ আল‑হাশেমের মতে, জোটের এই পদক্ষেপটি STC-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি যুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জোটের অতিরিক্ত আকাশীয় অভিযান না করে কূটনৈতিক চ্যানেল দিয়ে সমস্যার সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ, নতুবা সংঘাতের পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।

অভিযানের পরবর্তী ধাপ হিসেবে জোটের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, মুকাল্লা বন্দরে অবৈধ সরবরাহ রোধে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিপিং রুটে নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে কোনো বেসামরিক ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার ফলে, মুকাল্লা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বন্দর পরিচালনা ও বাণিজ্যিক শিপিং পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামগ্রিকভাবে, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের এই সীমিত বিমান হামলা, যুক্ত আরব আমিরাতের শিপে পৌঁছানো অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের লক্ষ্যে পরিচালিত, আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা মেনে নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কূটনৈতিক সমাধানের পথ অনুসরণ করার ইঙ্গিত দেয়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments