নির্বাচন কমিশন (ইসি) সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতের দিকে একটি পারিপত্রে চারটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করার নির্দেশ জারি করেছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় থাকে। পারিপত্রে ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং এতে নির্বাচনী পর্যায়ে অনিয়ম রোধের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে।
কমিটিগুলোকে দুইটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে: জেলা ও মেট্রোপলিটন (শহর) পর্যায়ে এবং উপজেলা ও থানা (মেট্রোপলিটন) পর্যায়ে। জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সভাপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে নির্ধারণ করা হয়েছে, আর উপজেলা ও থানা পর্যায়ে একই ধরনের টিমের নেতৃত্বে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিটি টিমের কাজের মধ্যে রয়েছে ভোটের সময় কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ না হওয়া নিশ্চিত করা, আইন ও বিধি-নিয়মের সঠিক প্রয়োগ, ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ প্রদান এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা। এছাড়া, ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো এবং ফলাফল ঘোষণার পর নিরাপদে বাড়ি ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করাও তাদের দায়িত্বের অংশ।
কমিটিগুলোর গঠন প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয় করা হবে। এই প্রতিনিধিদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যারা রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থ থেকে মুক্ত এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় সক্ষম।
কমিটি গঠনের পর, জরুরি ভিত্তিতে সদস্যদের নাম, পদবী এবং মোবাইল নম্বরসহ তালিকা ইসির সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। তালিকাটি ইসির তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে, যাতে প্রত্যেক টিমের কার্যক্রম সময়মতো পর্যবেক্ষণ করা যায়।
প্রস্তুত করা এই কাঠামোটি ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং ২০২৫ সালের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কোনো অনিয়মের দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসির মতে, এই কমিটিগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভোটারদের বিশ্বাস পুনর্স্থাপন করবে। কমিটিগুলোর কার্যক্রমের মাধ্যমে অনিয়মের সম্ভাবনা হ্রাস পাবে, ফলে নির্বাচনের ফলাফলকে সকল পক্ষ স্বীকারযোগ্য হবে।
ভবিষ্যতে, ইসি এই কমিটিগুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কমিটিগুলোকে সময়মতো রিপোর্ট জমা দিতে হবে, যাতে তদারকি দল দ্রুত কোনো সমস্যার সনাক্তকরণ ও সমাধান করতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসি নির্বাচনের সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।



